১৯৫৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন প্রখ্যাত পুঁথিসংগ্রাহক আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ। তার জন্ম ১৮৬৯ সালের ১১ অক্টোবর চট্টগ্রামের পটিয়ার সুচক্রদণ্ডী গ্রামে। তার জন্মের তিন মাস আগে বাবা মুনশি নুরউদ্দীন মারা যান। আবদুল করিম ১৮৯৩ সালে পটিয়া উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয় থেকে এন্ট্রান্স পাস করেন। চট্টগ্রাম কলেজে দুই বছর এফএ শ্রেণিতে পড়লেও টাইফয়েডের কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। ১৮৯৫ সালে তিনি চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল স্কুলের শিক্ষক নিযুক্ত হন। ১৮৯৬ সালে চট্টগ্রাম প্রথম সাব-জজ আদালতে শিক্ষানবিশ পদে যোগ দেন। ১৯০৬ সালে তিনি চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্কুল ইন্সপেক্টর দপ্তরে দ্বিতীয় কেরানির পদে চাকরি লাভ করেন। ১৯৩৪ সালে তিনি অবসরে যান। ১৯০৩ সালে তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের বিশিষ্ট সদস্য নির্বাচিত হন। পুঁথি সংগ্রহ ছিল তার নেশা। তার সংগৃহীত পুঁথির সংখ্যা প্রায় দুই হাজার। এককভাবে আর কোনো ব্যক্তি এত পুঁথি সংগ্রহ করতে পারেননি। তার এই সংগ্রহ ছাড়া বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচনা সম্ভব হতো না। তার সম্পাদিত গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নরোত্তম ঠাকুরের ‘রাধিকার মানভঙ্গ’, কবি বল্লভের ‘সত্যনারায়ণের পুঁথি’, রামবাজার ‘মৃগলুব্ধ সম্বাদ’, মুক্ত রাম সেনের ‘সারদামঙ্গল’, আলাওলের ‘পদ্মাবতী’ (খণ্ডাংশ)। তার সংগৃহীত পুঁথির মধ্যে প্রায় এক হাজার পুঁথির রচয়িতা ছিলেন বাঙালি মুসলমান। মুসলিম পুঁথিগুলো তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে এবং হিন্দু পুঁথিগুলো রাজশাহী বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়ামকে দান করে গেছেন। সাহিত্যকীর্তির স্বীকৃতিস্বরূপ চট্টল ধর্মমণ্ডলী তাকে ‘সাহিত্যবিশারদ’ (১৯০৯), নদীয়ার সাহিত্য সভা ‘সাহিত্য সাগর’ (১৯২০) এবং বাংলাদেশ সরকার ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ (মরণোত্তর, ১৯৯৫) প্রদান করে।