এবার ইয়েমেনে ইসরায়েলি বিমান হামলা, আঞ্চলিক সংঘাতের শঙ্কা

গাজা ও লেবাননের পর এবার ইয়েমেনে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের শঙ্কা আরও বেড়েছে। খবর আল জাজিরা।

রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইয়েমেনের রাস ইসা এবং হোদেইদাহ এলাকার বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সমুদ্রবন্দরে কয়েক ডজন বিমান হামলা চালানো হয়।

বিবৃতিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, ‘হুতিরা ইরানের নির্দেশনা ও অর্থায়নে এবং ইরাকি মিলিশিয়াদের সহযোগিতায় ইসরায়েলে হামলা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ণ এবং বৈশ্বিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ব্যাহত করছে।’

হুতি সমর্থিত আল মাসিরাহ টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, হামলায় বন্দরের এক কর্মী ও তিন বৈদ্যুতিক প্রকৌশলীসহ অন্তত ৪ জন নিহত হয়েছেন। বিমান হামলার কারণে হোদেইদার বেশিরভাগ অংশে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে বলে বাসিন্দারা জানিয়েছে।

এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে। মুখপাত্র নাসের কানানি এই হামলাকে ‘অমানবিক’ উল্লেখ করে ইসরায়েলের ‘অপরাধে’ পুরোপুরি সমর্থন দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন।

সানাভিত্তিক সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক হুসেইন আল-বুখাইতি আল জাজিরাকে বলেন, বিমান হামলার পর ছড়িয়ে পড়া আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন দমকলকর্মীরা।

লেবাননজুড়ে ইসরাইল যখন প্রাণঘাতী হামলা অব্যাহত রেখেছে, যার ফলে ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হচ্ছে, সেই মুহূর্তে এ বিমান হামলা চালানো হলো। শনিবার দক্ষিণ বৈরুতের ঘনবসতিপূর্ণ বেসামরিক এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরুল্লাহর হত্যাকাণ্ডে শোক প্রকাশ করে হুতিরা। লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধেরও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে হুতিরা হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে মধ্য ইসরায়েলে হামলা চালায়। এতে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের আশেপাশের এলাকার বাসিন্দারা আশ্রয়ের জন্য ছোঁটাছুটি শুরু করে।