১০ বছর আগে সাভারে ‘রানা প্লাজা’ ভবন ধসে সহস্রাধিক প্রাণহানির ঘটনায় করা হত্যা মামলায় হাইকোর্টে জামিন পেলেন ভবন মালিক সোহেল রানা। জামিন আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খান ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ রানাকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের এ আদেশ দেন।
আদালতে রানার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী সাজ্জাতুল আলী চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাসুদ রানা। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দেশ রূপান্তরকে বলেন, হাইকোর্টের এ জামিন আদেশে স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের তথ্যমতে, রানার জামিন প্রশ্নে রুল মঞ্জুর করে গত বছরের ৬ এপ্রিল হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ তাকে জামিন দেয়। পরে জামিনের এ আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ চেম্বার আদালতে আবেদন করলে আদালত ৯ এপ্রিল এক আদেশে রানার জামিন ওই বছরের ৮ মে পর্যন্ত স্থগিত করে বিষয়টির ওপর আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠায়।
পরে আপিল বিভাগ ১০ জুলাই জামিন স্থগিত রেখে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল শুনানি ছয় মাসের জন্য স্ট্যান্ডওভার (মূলতবি) রাখে। চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি বিষয়টি শুনানির জন্য উঠলে সর্বোচ্চ আদালত বিচারিক আদালতে চলমান এ মামলাটি ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়। এর ধারাবাহিকতায় সোহেল রানা আইনজীবীর মাধ্যমে আবারও হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাসুদ রানা বলেন, আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী ছয় মাসের মধ্যে মামলাটি নিস্পত্তি হয়নি। এই গ্রাউন্ডে সোহেল রানা জামিন পেয়েছেন।
তিনি বলেন, আদালতে বলেছি, রানা প্লাজা ভবন ধসে ১১শ’র বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। দুই হাজারের মানুষ আহত হয়ে অনেকে পঙ্গু হয়েছেন। এটি একটি স্পর্শকাতর মামলা। ইতোমধ্যে ৫০০শ’র বেশি সাক্ষীর মধ্যে ৯৩ জনের বেশি সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ হয়ে গেছে। আদালতের এ জামিন আদেশের স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে আবেদন করা হবে।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রানা প্লাজা ভবন ধসে নিহত হয় ১ হাজার ১৩৬ জন মানুষ। এ ঘটনার পাঁচ দিন পর ২৯ এপ্রিল যশোরের বেনাপোল থেকে রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।