এক্সিলারেট এনার্জির উপদেষ্টা হলেন পিটার ডি হাস

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জির স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজর হিসেবে যোগ দিয়েছেন কূটনীতি বিশেষজ্ঞ পিটার ডি হাস। ঢাকায় নিযুক্ত সাবেক এই মার্কিন রাষ্ট্রদূত কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় গত জুলাই মাসের শেষ দিকে বাংলাদেশ মিশন শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। অন্যদিকে বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহে যুক্ত রয়েছে এক্সিলারেট এনার্জি। 

এক্সিলারেট এনার্জি জানিয়েছে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন সার্ভিস থেকে দীর্ঘ ৩৩ বছরের কর্মময় জীবনের ইতি টেনে অবসরে যান। গতকাল মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত এক্সিলারেট এনার্জির কার্যালয়ে নতুন কর্মজীবন শুরু করেন তিনি।

অ্যাম্বাসাডর হাস তার স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মজীবনে কনস্যুলেট জেনারেল মুম্বাইয়ের স্টেট ফর ইকোনমিক অ্যান্ড বিজনেস অ্যাফেয়ার্সের ভারপ্রাপ্ত সহকারী সচিব এবং অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের ডেপুটি পারমানেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে কাজ করেছেন। ফরেন সার্ভিস ক্যারিয়ারে তিনি মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে লন্ডন, জাকার্তা, রাবাত, বার্লিন, মুম্বাইসহ পৃথিবীর নানা জায়গায় দায়িত্ব পালন করেছেন।

এক্সিলারেট এনার্জির প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিভেন কোবোস বলেন, ‘পিটার হাস এক্সিলারেট এনার্জি টিমে যোগদান করায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত এবং প্রতিষ্ঠানের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি তার স্টেট ডিপার্টমেন্ট ক্যারিয়ারের সময়জুড়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ সম্পর্ক উন্নয়নে একজন দক্ষ অ্যাডভোকেট হিসেবে কাজ করে গেছেন। ভূ-রাজনীতি এবং বাজার সম্পর্কেও তার সম্যক ধারণা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি তার নেতৃত্ব এবং অভিজ্ঞতা আমাদের টিমকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং সারা বিশ্বে আমাদের গ্রাহকদের জন্য এনার্জি সিকিউরিটি প্রদানে অসামান্য ভূমিকা রাখবে।’

পিটার ডি হাস বলেন, ‘সারা বিশ্বের জ্বালানির ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে মার্কিন বহুজাতিক এই কোম্পানি অসামান্য অবদান রেখে আসছে। মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির লক্ষ্যে এক্সিলারেট এনার্জির এই যাত্রায় তাদের সঙ্গে যোগ দিতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।’

বাংলাদেশে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের সরাসরি মার্কিন বিনিয়োগ রয়েছে, যা বৈদেশিক বিনিয়োগের মধ্যে প্রথম। বর্তমানে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের ৬০ শতাংশ বিনিয়োগই যুক্তরাষ্ট্রের। দেশটির বৃহৎ প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত রয়েছে।

দেশে আমদানিকৃত এলএনজি সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে পেট্রোবাংলার সঙ্গে এক্সিলারেট এনার্জি ২০১৬ সালের ১৮ জুলাই চুক্তি সই করে। নির্মাণ শেষে ২০১৮ সালের ১৯ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। টার্মিনালটির প্রতিদিন গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট। কক্সবাজারে একই সক্ষমতার আরেকটি এলএনজি টার্মিনালও নির্মাণ করেছে এক্সিলারেট এনার্জি, যেটি বাংলাদেশের সামিট গ্রুপ পরিচালনা করছে।

অন্যদিকে ২০২৬ সাল থেকে ১৫ বছরের জন্য প্রতি বছর বাংলাদেশকে গড়ে ১০ লাখ টন এলএনজি সরবরাহ দেওয়ার কথা রয়েছে এক্সিলারেট এনার্জির। গত বছরের ৮ নভেম্বর পেট্রোবাংলার সঙ্গে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি সই হয়েছে। এছাড়া পটুয়াখালীর পায়রায় দেশের তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের জন্য পেট্রোবাংলা এবং এক্সিলারেটের মধ্যে ‘পায়রা টার্মশিট অ্যাগ্রিমেন্ট’ নামে একটি চুক্তি সই হয় একইদিন।

এক্সিলারেট এনার্জি এলপি টেক্সাসের উডল্যান্ডে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আধুনিক এলএনজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। বিশ্বব্যাপী পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির ফ্লেক্সিবল ও সম্পূর্ণ সমন্বিত এলএনজি পণ্য বিশ্বের নানা দেশের গ্রাহকদের মাঝে নির্ভরযোগ্য জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করে আসছে। এক্সিলারেট এনার্জি ভাসমান স্টোরেজ রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট থেকে শুরু করে অবকাঠামো উন্নয়ন ও এলএনজি সরবরাহের সকল পর্যায়ে সহজ ও সমৃদ্ধ রিগ্যাসিফিকেশন সেবা দিচ্ছে। বাংলাদেশ, আবুধাবি, এন্টওয়ার্প, বোস্টন, বুয়েনস আইরেস, দোহা, দুবাই, হেলসিংকি, লন্ডন, ম্যানিলা, রিও ডি জেনিরো, সিঙ্গাপুর এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা রয়েছে।