১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়ল ৩৫ টাকা

ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজির তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়ল আরেক দফা। সেপ্টেম্বরের তুলনায় চলতি মাসের জন্য এই দাম ৩৫ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৪৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতের অন্যান্য আকারের এলপি গ্যাসের দামও বেড়েছে। আর গাড়িতে ব্যবহৃত প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৬৫.২৬ টাকা বেড়ে হয়েছে ৬৬.৮৪ টাকা। এ নিয়ে টানা চারমাস ধরে এলপিজির দাম বাড়ল। 

বুধবার (২ অক্টোবর) দুপুরে নতুন দর ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

তবে সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা সাড়ে ১২ কেজি এলপিজির দাম ৬৯০ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। যদিও সারা দেশে চাহিদার তুলনায় এটি মাত্র ১ থেকে দেড় শতাংশের মতো সরবরাহ করার সক্ষমতা রয়েছে। আবার যাও সরবরাহ করা হয় তা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

চলতি মাসের জন্য ঘোষিত দর অনুযায়ী, প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১২১ টাকা ৩২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত মাসে ছিল ১১৮ টাকা ৪৪ পয়সা। সে অনুযায়ী সাড়ে ৫ কেজি থেকে ৪৫ কেজি ওজনের বোতলজাতকৃত এলপিজির দাম বেড়েছে। এদিকে বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত রেটিকুলেডেট পদ্ধতিতে তরল ও গ্যাসীয় অবস্থায় সরবরাহকৃত এলপিজির দামও বেড়েছে আনুপাতিকহারে।

এর আগে জুলাই মাসে ১২ কেজি এলপিজির দাম ৩ টাকা বেড়ে হয় ১ হাজার ৩৬৬ টাকা। পরে মাস আগস্টে ১১ টাকা বেড়ে ১৩৭৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সেপ্টেম্বরে আরও ৪৪ টাকা বাড়িয়ে এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছিলো ১৪২১ টাকা। একইভাবে অটোগ্যাস এবং অন্যান্য আকারের এলপিজির দামও বাড়ানো হয়।

তবে গত জুন ও মে মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম যথাক্রমে ৩০ টাকা ও ৪৯ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৩৬৩ টাকা ও ১ হাজার ৩৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আর টানা ৮ মাস মূল্যবৃদ্ধির পর গত ৩ এপ্রিল ভোক্তা পর্যায়ে কমানো হয়েছিল এলপিজির দাম। মার্চ মাসের তুলনায় এপ্রিলে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৪০ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৪৪২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া গত মার্চ মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৮ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৪৮২ টাকা, ফেব্রুয়ারিতে ৪১ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৪৭৪ টাকা ও জানুয়ারিতে ২৯ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৪৩৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

গত বছরের জুলাই মাসে ১২ কেজি ওজনের এলপিজি’র দাম ছিল ৯৯৯ টাকা। ৮ মাসের ব্যবধানে গত মার্চ মাসে সমপরিমাণ এলপিজির দাম বেড়ে ১৪৮২ টাকা দাঁড়িয়েছিলো। পরবর্তীতে ওই দাম কোনো মাসে বেড়েছে আবার কমেছে কোনো মাসে।

যদিও বাজারে কমিশনের বেঁধে দেওয়া মূল্যের চেয়ে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছে মতো বেশি দাম এলপিজি বিক্রি করছেন বলে দীর্ঘদিন ধরেই ভোক্তারা অভিযোগ করে আসছেন। এক্ষেত্রে বিইআরসি’র বক্তব্য হচ্ছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে তদারকি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। 

এলপিজি মূলত প্রোপেন ও বিউটেন এর একটি মিশ্রিত অনুপাত। এই দুটিই আমদানি করা হয়। সৌদি আরামকোর ঘোষিত মূল্য (সৌদি সিপি) ধরে দেশে এলপি গ্যাসের দাম ঠিক করে বিইআরসি। এলপিজি আমদানিকারক কোম্পানিগুলোর ইনভয়েস মূল্যকে আমলে নিয়ে দর ঘোষণা করে। দেশে ২০টি কোম্পানি এলপিজির কাাঁচামাল আমদানি করে। দাম নির্ধারণে ডলারের মূল্যও একটি ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশে প্রোপেন বিউটেনকে ৩৫:৬৫ অনুপাতে মিশ্রিত করে এলপিজি তৈরি করা হয়।

এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বাসাবাড়িতে পাইপলাইনে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকটের কারণে গৃহস্থালি রান্নার পাশাপাশি রেস্তোরাঁ, পরিবহন, ছোট-বড় শিল্পকারখানায়ও এলপিজি ব্যবহার বাড়ছে। এই বাজারের অন্তত ৯৯ শতাংশ বেসরকারি খাতের দখলে।

পাইপলাইনের গ্যাসের সংকটে এলপি গ্যাস দেশজুড়ে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোতে অনেক বাসায় এলপিজি নিত্যপণ্য হয়ে উঠেছে। বিইআরসি প্রতি মাসের শুরুতে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দেয়।