গার্মেন্টস সেক্টরে অস্থিরতার জন্য দায়ী আওয়ামী লীগ: ফারুক

গার্মেন্টস সেক্টরে অস্থিরতার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, ‘পলাতক শেখ হাসিনার প্রেতাত্মারা গার্মেন্টস সেক্টরে অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি করছে। ইতিমধ্যে সালাম মুর্শিদীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরকম আরও যারা আছে তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে।’

আজ বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্যে ফারুক বলেন, ‘শেখ হাসিনার সহচররা, তার অনুগতরা এখনো বাংলাদেশে আপনার সরকারকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত করছে। সালাম মুর্শেদীরা বাংলাদেশের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। এই সালাম মুর্শেদীর প্রেতাত্মারা এখনো গাজীপুরে অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি করছে গার্মেন্টস সেক্টরে।’

তিনি বলেন, ‘এখনও আশুলিয়ায় কেন অশান্তি? এখনও কেন কোনাবাড়িতে গার্মেন্টস বন্ধ? এখনও কেন গাজীপুরে গার্মেন্টস বন্ধ? সেখানে হাসিনার প্রেতাত্মারা এখনও আছে। আজকে পত্রিকায় দেখলাম একজন বিজিএমই'র সাবেক সভাপতি বিবৃতি দিয়েছেন। এই সভাপতির আমলে বাংলাদেশের গার্মেন্টসকে ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টরকে হিন্দুস্তানে নিয়ে যাওয়ার পাঁয়তারা করেছিল। গার্মেন্টস সেক্টর ধ্বংসকারী কুখ্যাত আব্দুস সালাম মুর্শিদীকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এভাবে আরো যারা প্রেতাত্মা আছে তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে।’

ফারুক বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ চায় আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে আসুক, কথা বলুক। যে কথাগুলো তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিদেশ থেকে বলে আসছেন। তারেক রহমানের সাংগঠনিক নির্দেশনা, রাষ্ট্র নায়কত্বমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে প্রমাণ হয় বাংলাদেশে শহীদ জিয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তান তারেক রহমানই পারবেন বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে অটুট রাখতে।’

তিনি বলেন, ‘এ সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। শেখ হাসিনা বলেছেন আওয়ামী লীগ যদি ক্ষমতা ছাড়ে তাহলে বিএনপি-জামায়াত আওয়ামী লীগের এক কোটি নেতাকর্মীকে হত্যা করবে। আমরা বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি একটা আওয়ামী লীগের কর্মীর গায়ে আমরা হাত তুলিনি।’

ফারুক বলেন, ‘শেখ হাসিনার উচিত দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়া। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনা আজ ক্ষমতায় নেই, ক্ষমতায় আছে এমন এক ব্যক্তি; যে ব্যক্তিকে আপনি (শেখ হাসিনা) ১৪ তলা পর্যন্ত হেঁটে হেঁটে উঠিয়ে হাজিরা দিতে বাধ্য করেছেন। সে ড. ইউনূস এখন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা। অহংকার আল্লাহ কোনোদিনও ক্ষমা করেন না। ক্ষমা আপনাকে করবে কিনা জানি না। তবে আপনার উচিত বাংলাদেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়া।’

সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘যারা মুগ্ধকে গুলি করে হত্যা করেছে তারা তো আজও বাংলাদেশের আনাছে-কানাচে প্রশাসনে ঘাপটি মেরে বসে আছে। তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। আবু সাঈদের কবরের পাশে ফুল গাছ অনেক বড় হয়েছে, আমরা তাকে কিছুই দিতে পারব না কিন্তু যুগ যুগ ধরে আমরা তাকে স্মরণ করব।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আলতাব হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাছের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, মাওলানা শাহ মোহাম্মদ নেসারুল হক, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, বিএনপি নেতা শাহজাহান মিয়া সম্রাট, ইসমাইল হোসেন সিরাজী প্রমুখ।