নাসরাল্লাহকে ইসরায়েলি ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন খামেনি

গত শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) লেবাননের বৈরুতে ইসরায়েলি বোমা হামলায় নিহত হয়েছেন দেশটির শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরাল্লাহ। তবে তাকে হত্যার কয়েক দিন আগেই ইসরায়েলি ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ইরানি এক সূত্রের বরাতে রয়টার্স বলছে, হিজবুল্লাহর প্রয়াত প্রধান নাসরাল্লাহকে হত্যার কয়েকদিন আগেই তাকে ইসরায়েলি ষড়যন্ত্র এবং লেবানন থেকে পালিয়ে যাওয়ার জন্য সতর্ক করেছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

এছাড়া তেহরানে সরকারি জ্যেষ্ঠ পদগুলোতে ইসরায়েলি অনুপ্রবেশ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তিত দেশটি।

ইরানের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, হিজবুল্লাহর যোগাযোগের যন্ত্র পেজার বিস্ফোরণের পরপরই, খামেনি হিজবুল্লাহ প্রয়াত প্রধানকে ইরানে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়ে একজন বার্তাবাহকের মাধ্যমে একটি বার্তা পাঠান।

খামেনির পাঠানো বার্তায় গোয়েন্দা প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে নাসরাল্লাহকে জানানো হয়েছিল যে, হিজবুল্লাহর মধ্যে ইসরায়েলি গোয়েন্দা রয়েছে এবং তাকে হত্যার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, খামেনির পাঠানো সেই বার্তাবাহক ছিলেন সিনিয়র ইরানি বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্বাস নীলফরৌশান। ইসরায়েলি হামলায় তিনিও হাসান নাসরাল্লাহর সাথে নিহত হয়েছেন।

সাবেক হিজবুল্লাহ প্রধান নাসরাল্লাহ নিহতের পরদিন শনিবার অজ্ঞাত স্থানে নিরাপদে রাখা হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে।

জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ইসরায়েলে ২৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের জন্য ব্যক্তিগতভাবে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এছাড়া রেভল্যুশনারি গার্ড এক বিবৃতিতে বলেছে, নাসরাল্লাহ ও নীলফরৌশানের মৃত্যুর প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে।

বিবৃতিতে জুলাইয়ে তেহরানে হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়াহকে হত্যা এবং লেবাননে ইসরায়েলের হামলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।