সালাউদ্দিন চার কিন্তু মেজবাহ আরও বেশি

  • টানা পঞ্চমবারের মতো বাফুফের নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হলেন সাবেক আমলা মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ।
  • ২০২০ নির্বাচনে তার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল বিস্তর

দুজনের পথচলার শুরু হয়েছিল এক সঙ্গে, ২০০৮ সালে। দীর্ঘ ১৬ বছর পথচলার পর কাজী সালাউদ্দিন থেমে যাচ্ছেন। তবে থামছেন না মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের চার মেয়াদের সভাপতি সালাউদ্দিন ২৬ অক্টোবর নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে আগের চারটি নির্বাচনে প্রধান নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করা মেজবাহকে এবারও দেওয়া হয়েছে দায়িত্ব। সর্বশেষ ২০২০ নির্বাচনে সাবেক এই আমলার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল বিস্তর। তবে বাফুফের বর্তমান নির্বাহী কমিটির কাছে গ্রহণযোগ্যতা একদমই কমেনি, বেড়েছে। যার প্রমাণ গত নির্বাচনে তার সহযোদ্ধা দু'জনকে বদলে ফেলা হলেও তাকে রাখা হয়েছে দায়িত্বে। বৃহস্পতিবার বাফুফের একাদশ নির্বাহী কমিটির সভায় নির্বাচন কমিশন গঠন হওয়ার পাশাপাশি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ভোটার তালিকা। এবার ১৩৩জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

এটি ছিল বর্তমান নির্বাহী কমিটির শেষ নিয়মিত সভা। তবে এই সভায় উপস্থিত ছিলেন না অনেকেই। সিনিয়র সহ-সভাপতি সালাম মুর্শেদী পদত্যাগ করেছেন। চার সহ-সভাপতির মধ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তেকে আত্মগোপনে আছেন তিনজন- কাজী নাবিল আহমেদ, মহিউদ্দিন আহমেদ মহি ও আতাউর রহমান ভুঁইয়া মানিক। অপর সহ-সভাপতি ইমরুল হাসান যুক্ত হয়েছিলেন অনলাইনে। সভায় ২০২৫ সালের বাজেট অনুমোদন না হওয়ায় আরেকটি সভার প্রয়োজন পড়বে বলে বৃহস্পতিবার সালাউদ্দিন মিডিয়ার সামনে আসেননি। তাই জেষ্ঠ্যতার ভিত্তিতে সংবাদ মাধ্যমের সামনে সভার সিদ্ধান্ত দায়িত্ব দেওয়া হয় নির্বাহী সদস্য সত্যজিৎ দাস রুপুকে। নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, 'মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ প্রধান নির্বাচন কমিশনার। তার সঙ্গে একেএম এহসানুর রহমান ও সুরাইয়া আক্তার জাহান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এরা সকলেই সাবেক সরকারী কর্মকর্তা।' বারবার মেজবাহ উদ্দিনকে কেন দায়িত্ব দেওয়া প্রশ্নের ব্যাখ্যায় রূপু বলেন, 'বিগত নির্বাচনগুলো সূচারু রূপে পরিচালনা করেছেন মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ। ওনার ওপর সবার বিশ্বাস আছে। ওনার নাম যখন অনুমোদিত হয়ে গেছে, তখন আর বিকল্প নাম নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন নেই।' অথচ তার বিরুদ্ধে ২০২০ সালের নির্বাচনে বেশ ক'জন পরাজিত প্রার্থী ভোট গননায় আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, কাজী সালাউদ্দিনের কাছের মানুষ মাহফুজা আক্তারকে জেতাতে তিনি অসততার পথ অবলম্বন করেন ভোট গননার সময়।

এদিকে ভোটার তালিকা নিয়ে সভায় সেভাবে কোন ওজর আপত্তি ওঠেনি বলা জানা যায়। ফলে আগের দিন ভোটার তালিকায় ওঠা আপত্তি নিরসনে বিশেষ কমিটির সুপারিশকৃত ১৩৩জনের তালিকা অনুমোদন হয়। গেলো চারটি নির্বাচনের চেয়ে এবার ভোটার সংখ্যা কমেছে অনেকটা। এবার বিশেষ কমিটি চারটি জেলার ভোটাধিকার বাতিল করেছে। এই কমিটির আহ্ববায়ক ড. মোহাম্মদ জাকারিয়াকে নির্বাচনী আপিল কমিশনের প্রধান করে গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের কমিটি। বাকি দুই সদস্য হলেন এহসান হারুনুর রশীদ, মিহির সারওয়ার মোর্শেদ।

সভায় এএফসি স্টেডিয়াম প্রজেক্টের আওতায় বাফুফে ভবন সংস্কারের বিষয়টি অনুমোদিত হয়েছে। ২০০৬ সালে মতিঝিলের অফিস পাড়ায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের দেওয়া জায়গায় ফিফার অর্থ সহায়তায় নির্মিত হয়েছিল বাফুফে ভবন। এরপর থেকে সেভাবে সংস্কার হয়নি প্রায় ১৮ বছর পুরানো ভবনটি। বাফুফে ভবনে একটি মিডিয়া সেন্টার স্থাপনের সিদ্ধান্তও নিয়েছে ওই প্রকল্পের আওতায়। 

এছাড়া আগামী নভেম্বরে ফিফা উইন্ডোতে জাতীয় দলের ম্যাচ খেলা, চলতি মাসে নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে যাওয়া জাতীয় নারী দলের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয় সভায়। তবে নির্বাচনী কংগ্রেসে পেশ করার জন্য ২০২৫ সালের অর্থ বাজেট নিয়ে আলোচনা হলেও বেশ কিছু পর্যবেক্ষন থাকায় তা ফিন্যান্স কমিটির কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। এই কমিটিকে তিনদিন সময় দেওয়া হয়েছে পর্যবেক্ষণগুলো খতিয়ে দেখতে। এরপর আরেকটি সভা করে তা অনুমোদন দেওয়া হবে বলে জানান রূপু। তিনি আরও জানান, এ কারণেই বাফুফে সভাপতি বৃহস্পতিবার সভা শেষে মিডিয়ার মুখোমুখি হতে চাননি। তবে প্রারম্ভিক বক্তব্যে তিনি সহকর্মীদের কাছে ভুল ত্রুটির জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন, 'সভার প্রারম্ভিক বক্তব্যে উনি (সভাপতি) বলেছেন, আমি দীর্ঘ সময় ছিলাম। দীর্ঘ সময়ে আমি একটা জিনিসই বুঝেছি, সেটা হলো ফুটবল। আর অন্য কিছুর সঙ্গে আমার সংস্লিষ্ঠতা নেই। আমি ফুটবলের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছি। এখানে আমার ভুল ত্রুটি থাকতে পারে। বা ব্যক্তিগতভাবে কারও সাথে কোন কিছু থাকতে পারে, তার জন্য দুঃখপ্রকাশ করছি। আগামী যে কমিটি আসবে, তাদের সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।'

অর্থাৎ মেজবাহর পাঁচ নিশ্চিত হওয়ার দিনে চারেই থেমে যাওয়া সালাউদ্দিন নিজেকে আড়ালে রাখলেন মিডিয়া থেকে।