রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি এন্ড প্যারাসাইটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার অভিযোগ আনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শেকৃবির শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) দুপুর ৩টার দিকে শিক্ষার্থীরা এ বিক্ষোভ মিছিল করেন।
এ সময়, ‘ষড়যন্ত্রকারীর অভিযোগ মানি না, মানব না’, ‘মিথ্যা অভিযোগ মানি না মানব না’, ‘ষড়যন্ত্রকারীর কালো হাত, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’ ইত্যাদি স্লোগান দেয় শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী জাহিদ জানান, ‘ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে সরকারের পতন ঘটেছে। এ আন্দোলনে যখন ছাত্রদের ওপর নির্যাতন করা হচ্ছিল তখন শুরুর দিকে শেকৃবির কোনো শিক্ষক এগিয়ে আসেন নাই। সেই সময় শহীদ আবু সাইদের পোস্ট শেয়ার দিয়ে শেকৃবির শিক্ষকদের মধ্যে প্রথম যিনি প্রতিবাদ জানিয়ে ছিলেন তিনি হচ্ছেন কামরুল স্যার। শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যেকোনো অন্যায় অবিচার হলে কামরুল স্যার সবার আগে ছাত্রদের পাশে দাড়ান। তিনি গত বছরগুলোতে অনেক বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। আমরা এই মিথ্যা অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং কোনো অপশক্তি যদি আবারও স্যারের ক্ষতি করার চেষ্টা করে তাহলে তাদের কালো হাত ভেঙে দিতে আমরা প্রস্তুত আছি।’
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সহযোগী অধ্যাপক মো. কামরুল হাসান বলেন, যে হত্যা মামলায় আমাকে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, সেই ঘটনার সাথে আমি কোণোভাবেই সম্পৃক্ত না। এমনকি সেই লোককে আমি চিনতামও না। আমি মামলার বাদী পক্ষের সাথেও দেখা করেছি, তারাও জানেন না আমার নাম কীভাবে আসলো। কেউ ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে আমার নাম দিয়েছে।
শেরেবাংলা নগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোজাম্মেল বলেন, আসলে এই মামলাটি এখনও এজাহারভুক্ত হয়নি। যদিও বাদী অভিযোগ নিয়ে এসেছিল তবে এখন আরেকটু সময় নিচ্ছে। যেহেতু এজাহারভুক্ত নয় তাই এখনই কিছু বলা সম্ভব নয় তবে আমরা বিষয়গুলো নিয়ে অবগত এবং অভিযোগ আসলে পুনর্বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের আন্দোলনে শেরেবাংলা নগরের ফুলমার্কেট এলাকায় হাফিজুর রহমান সুমন (৪২) সন্ত্রাসীদের হামলায় জখম হয়ে মারা যান। এতে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এক নম্বর এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে ২ নম্বর আসামি করে ১০০ জনের অধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়। মামলার বাদী হন নিহত হাফিজুরের স্ত্রী বিথি আক্তার।
ওই মামলায় ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পক্ষে থাকা শেকৃবি শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক কামরুল হাসানের নাম তালিকার ৭১ নম্বরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন এবং প্রতিবাদ বিক্ষোভ মিছিল করেন।
এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাদী নিজেও অবগত নয় কীভাবে হত্যা মামলার তালিকায় শেকৃবি শিক্ষকের নাম যুক্ত হয়েছে।