শ্রমিকরা না খেয়ে মরবে তা হবে না : নুরুল হক

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেছেন, ‘মালিকরা আকাশচুম্বী লাভ করবে আর শ্রমিকরা না খেয়ে মরবে তা হবে না। কাজেই লাভের একটা সীমা থাকতে হবে। সীমাহীন লাভ করা যাবে না। প্রতিটি কলকারখানায় বাৎসরিক লভ্যাংশের একটা ন্যূনতম অংশ শ্রমিকদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে। শ্রমিক অধিকার পরিষদ সেই লক্ষ্যে কাজ করবে।’ তিনি গতকাল শুক্রবার বিকেলে গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী ডিগ্রি কলেজ মাঠে শ্রমিক অধিকার পরিষদ আয়োজিত এক শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, গত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদের একটি বিরাট ভূমিকা ছিল। সারা বাংলাদেশে নতুন প্রজন্মের ছাত্ররা আগামীর নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। নেতৃত্ব তৈরির জায়গা সব বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্র সংসদ। তাই অনতি বিলম্বে সব ছাত্র সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করার জন্য দাবি জানাচ্ছি।  এ সময় তিনি সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আয়োজনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আহ্বান জানান।

শ্রমিক অধিকার পরিষদের সভাপতি আবদুর রহমানের সভাপতিত্বে শ্রমিক সমাবেশে বক্তব্য দেন গণঅধিকার পরিষদের ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন, যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মঞ্জুর মোর্শেদ মোমেন, শ্রমিক অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা সম্পদ, গণঅধিকার পরিষদ নেতা মান্নান দেওয়ান, হাজী মোবারক হোসেন, সাইদুর রহমান বিপ্লব, ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা মো. সোলায়মান প্রমুখ।

নুরুল হক নুর বলেন, কলকারখানায় শ্রমিকদের সমাবেশ সংগঠন করার অধিকার থাকতে হবে। অকারণে কোনো শ্রমিককে ছাঁটাই করা বেতন বৈষম্য মানা হবে না। পতিত সরকার গত ১৫ বছরে প্রায় ১৮ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে। এ টাকা পাচার করেছে ফ্যাসিবাদের দোসর ব্যবসায়ী, আমলা ও মাফিয়ারা।

তিনি শ্রমিকদের উদ্দেশে বলেন, আমরা গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে খবর পেয়েছি ভিয়েতনাম, ভারত, কম্বোডিয়াসহ যারা বাংলাদেশের প্রতিযোগী, বিশেষ করে আমাদের পতিত স্বৈরাচার এবং তার দোসররা এই রপ্তানিমুখী খাতকে ধ্বংস করার জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। কাজেই আমার শ্রমিক ভাই বন্ধুদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, কারও উসকানিতে পা দিয়ে মিলকারখানায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করবেন না। কোনো ধরনের আন্দোলন করে শিল্পকারখানা বন্ধ করবেন না।