গত কয়েক দিন ধরেই দেশের বেশ কিছু ফেডারেশনের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করছে ক্রীড়াঙ্গনের সংস্কারের জন্য গঠিত সার্চ কমিটি। আগামীকাল রবিবার সেই ধারাবাহিকতায় বাস্কেটবলের খেলোয়াড়, কমর্কতাদের সঙ্গে বসার কথা কমিটির। তবে বাস্কেটবল ফেডারেশন থেকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে পাঠানো ২৩ জনের তালিকায় বাদ দেওয়া হয়েছে খেলাটির অনেক সংগঠককে। তাদেরই একজন বাস্কেটবলের প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব দ্য গ্রেগসের ম্যানেজার রাশেদুল হাসান। তালিকায় নিজের নাম না দেখে হতাশ অনিয়ম ও দুর্নীতির কথা তুলে ধরতে চাওয়া এই কর্মকর্তা।
বাস্কেটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এ কে সরকার (অভিজিত কুমার সরকার) ১৬ বছর ধরে আছেন একই পদে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে তার অধীনে বাংলাদেশের বাস্কেটবল কোনও উন্নতি হয়নি। ঘরোয়া বাস্কেটবলের সবচেয়ে বড় আসর প্রিমিয়ার লিগ। অথচ হত ১৪ বছরে এ লিগ আয়োজিত হয়েছে মাত্র ৬ বার। ২০১১-১৩ টানা তিন বছর লিগ হওয়ার পর চার বছরের বিরতি শেষে ২০১৭ ও ২০১৯ সালে দুবার লিগ হয়। সবশেষ প্রিমিয়ার লিগ হয় কভিডের মধ্যে ২০২০ সালে।
এই লিগটি নিয়েও আছে বিস্তর অভিযোগ। রাশেদুল হাসান জানান, ‘তিনি (এ কে সরকার) প্রথমে জানিয়েছিলেন যদি করোনার মধ্যে প্রিমিয়ার লিগে অংশ না নিই, তাহলে অবনমন থাকবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দ্য গ্রেগস, ফ্লেইম বয়েজের মতো যে সব ক্লাব অংশ নেয়নি তাদেরকে রেলিগেশনে ফেলে দেওয়া হয়। কারণ ধূমকেতু ক্লাব লিগ চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনা। আমরা না খেলায় ক্লাবটি সেবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ওরা ধূমকেতুকে চ্যাম্পিয়ন করতেই আমাদের নিয়ে এমন নাটক করেছিল।’
ফ্লেইম বয়েজের সাধারণ সম্পাদক সাইদ আহমেদ চিঠি দিয়ে করোনার পরে লিগ আয়োজনের দাবি জানান। কিন্তু তার ক্লাবকে প্রথম বিভাগে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল, ‘করোনার মধ্যে স্কুল-কলেজ বন্ধ ছিল। আমাদের ক্লাবের সব খেলোয়াড় ছাত্র। তখন আমরা চেয়েও কোনও খেলোয়াড় পাইনি। ফেডারেশনে চিঠি দিয়েছিলাম যাতে খেলা পরে শুরু করে। ওরা কোনও কথা শোনেনি। বরং ১০ দলের মধ্যে ৬ দলই খেলেনি। অথচ ওরা অন্যায়ভাবে ১ম বিভাগের ৬টা দলকে তুলে এনে প্রিমিয়ারে খেলিয়েছে। তখন আমাদের নামিয়ে দেওয়া হয় প্রথম বিভাগে।’
এমনকি গত ১৮ বছরে মাত্র একবার মাঠে গড়িয়েছে দ্বিতীয় বিভাগ বাস্কেটবল লিগ। ২০০৪ সালের পর সবশেষ ২০২২ সালে আয়োজন করা হয় এই লিগের। প্রতি বছর দ্বিতীয় বিভাগ আয়োজন করেই কাউন্সিলর দেওয়ার নিয়ম ফেডারেশনের। কিন্তু সেই আয়োজন তো হয়ই না, উল্টো দ্বিতীয় বিভাগ থেকেও কাউন্সিলরের নাম পাঠানো হয় এনএসসিতে। এসব নিয়ে বিতর্ক হওয়ার পর ২০২২ সালে নির্বাচনকে সামনে রেখে দ্বিতীয় বিভাগ আয়োজন করতে বাধ্য হয় ফেডারেশন।
সার্ভিসেস এবং বিকেএসপির খেলোয়াড় ছাড়া অন্যদের ক্ষেত্রে পক্ষপাত ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে ফেডারেশনের বিপক্ষে। সাধারণ খেলোয়াড়রা ক্যাম্পে ডাক পেলে তাদের আবাসন ও খাওয়া খরচ নিজেদেরই বহন করতে হয় বলে অভিযোগ করেন সাইদ আহমেদ, ‘সিভিলিয়ান কোনও খেলোয়াড় এলে তাকে সব খরচ দিতে হয়। ২০২২ সালে মালয়েশিয়ায় ফিবা এশিয়া কাপ অনূর্ধ্ব- ১৭ টুর্নামেন্টে খেলতে যাওয়া ৪ জন খেলোয়াড় থেকে ১ লক্ষ ২০ হাজার করে টাকা নিয়েছে ফেডারেশন। অথচ মালশিয়ার বিমান ভাড়া ৩৫ হাজার করে। সেখানে থাকা খাওয়ার কোনও খরচ নেই। এর মানে প্রত্যেক খেলোয়াড়ের কাছ থেকে ৮৫ হাজার টাকা করে পকেটে ঢুকিয়েছে ফেডারেশন। এমন করলে কোন সিভিলিয়ান খেলতে আসবে? তাছাড়া বিওএ, এনএসসি থেকে পাওয়া টাকাগুলো কোথায় খরচ হয়, সেটাও জানা দরকার।’
এছাড়াও রেফারি, কোচ, সভাপতির স্বজনপ্রীতি, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সাফল্যহীনতাসহ নানা অভিযোগে বিদ্ধ দেশের বাস্কেটবল ফেডারেশন।