গোয়ালিয়রে আগে ব্যাট করলেই হার?

গোয়ালিয়রের শ্রীমন্ত মাধবরাও সিন্ধিয়া ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ম্যাচ ফিরছে ১৪ বছর পর। এই মাঠেই শচিন টেন্ডুলকার হাঁকিয়েছিলেন ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিটি। ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেই ম্যাচটাই ছিল এই মাঠের সবশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এক যুগেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারতের সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি দিয়ে মাঠে ফিরছে আন্তর্জাতিক প্রাণ।

বাংলাদেশ সময় আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মধ্যপ্রদেশের এই মাঠটিতে শুরু হবে ম্যাচটি। ইতোমধ্যে চর্চা হচ্ছে কেমন হবে দুই দলের একাদশ, সেটা নিয়ে। সঙ্গে কৌতুহলের বিষয় উইকেটের আচরণ নিয়েও। কারণ ১৪ বছর ধরে যে মাঠে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ হয় না, সেখানে উইকেট টি-টোয়েন্টি সুলভ আচরণ করবে কিনা সেটাও প্রশ্ন উঠছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো তাদের প্রতিবেদনে দাবি করেছে, গোয়ালিয়রের উইকেটটি খুবই ব্যাটসম্যান সহায়ক বলে মনে করা হচ্ছে। এই পিচে বল ভালোভাবে বাউন্স করে, যা ব্যাটসম্যানদের শট খেলতে সাহায্য করে। ফলস্বরূপ ম্যাচগুলোতে অনেক বেশি রান হতে পারে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগে বেশ কিছু ম্যাচে দলগুলো ২০০ রানের বেশি করেছে, যা এই উইকেটের ব্যাটিং-বান্ধব স্বভাবকে নির্দেশ করে।

তবে পেস বোলাররাও এখানে কার্যকর হতে পারেন। কারণ এই মাঠে প্রায় ৬৫% উইকেট পেসাররা নিয়েছেন। ফলে উইকেটটি ব্যাটিংয়ের জন্য সহায়ক হলেও, সঠিক লাইন ও লেন্থে বল করলে পেসারদেরও সাফল্যের সুযোগ রয়েছে। অতীতে চেজিং দলগুলোই এখানে বেশি ম্যাচ জিতেছে, তাই টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে।

মোটকথা, এই উইকেটটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের জন্য বেশ উপযুক্ত এবং ব্যাটসম্যান ও পেসার উভয়ের জন্যই উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের সম্ভাবনা রয়েছে​। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পরে ব্যাট করা দলগুলো বেশি সফল হয়েছে। ১২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের মধ্যে ৮টি ম্যাচ জিতেছে চেজিং দল। পেস বোলারদেরও ভালো বাউন্স ও মুভমেন্ট পাওয়ার সুযোগ থাকে, যা ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ব্যাটসম্যানদের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তাই, টস জিতলে সাধারণত অধিনায়করা আগে ফিল্ডিং নেওয়ার দিকে ঝোঁকেন, কারণ পরে ব্যাট করলে চেজ করার সময় সুবিধা পাওয়া যায়​।

তবে সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে গোয়ালিয়রের এই মাঠে এখনও কোনো আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি। তাই এই মাঠে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি-তে কোনো সর্বোচ্চ বা সর্বনিম্ন সংগ্রহের রেকর্ড নেই। তবে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মধ্যপ্রদেশ টি-টোয়েন্টি লিগে বেশ কয়েকটি ম্যাচে হাই স্কোরিং ম্যাচ হয়েছে। বেশিরভাগ ম্যাচেই দলগুলো ২০০ রানের বেশি করেছে। যে পরিসংখ্যান এই মাঠ যে ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো পিচ সেটাই নির্দেশ করে​।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে কোনো দল আগে ব্যাট করে ১৮০-২০০ রানের মতো সংগ্রহ দাঁড় করালেই সেটাকে নিরাপদ স্কোর হিসেবে ধরা হয়। তবে এই মাঠে সেটা নিরাপদ নয়। উইকেট ব্যাটিংবান্ধব, তাই এরচেয়ে বেশি সংগ্রহও প্রয়োজন হতে পারে। যদি ব্যাটসম্যানরা ফর্মে থাকেন তাহলে বাংলাদেশের সংগ্রহ বড় হতে পারে। যদিও ভারত ১৮০ করলেই বাংলাদেশকে থামাতে পারবে, কারণ এই ফরম্যাটে বাংলাদেশ এখনও বড় দল হয়ে উঠতে পারেনি।