সালাউদ্দিনকে নিয়ে 'বোমা' ফাটালেন মেজবাহ

বাফুফে নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার মেজবাহ উদ্দিন দাবী করেন, আগের তিনটি নির্বাচনে রাজনৈতিক সরকারের প্রভাব ব্যবহৃত হয়েছে। এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো দায়িত্ব পালন করা মেজবাহ আঙ্গুল তুলেছেন চার মেয়াদের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের দিকে


দু'দিন আগে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে নির্বাহী কমিটির সভায় অভিজ্ঞ মেজবাহ উদ্দিনকে প্রধান করে ঘোষিত হয় তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন। ২৬ অক্টোবর নির্বাচন আয়োজনে রবিবার থেকে কাজ শুরু করেছে কমিশন। সকাল সাড়ে ১১টায় নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার কথাও জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। সে পর্যন্ত সবকিছুই ঠিক ছিল। এরপর আগের চার নির্বাচনে একই দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা জানতে চাইতেই বোমা ফাটালেন মেজবাহ। নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনস্থল প্রভাবমুক্ত দাবী করে তিনি আগের তিন নির্বাচনে রাজনৈতিক সরকারের প্রভাব ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ তোলেন চার মেয়াদের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে! মোটা দাগে মেজবাহর বক্তব্য পরিস্কার হয়েছে, নিজের পথের কাঁটা সরিয়ে দিতে সালাউদ্দিন রাজনীতিকে ফুটবলের সঙ্গে জড়িয়েছেন!

রবিবার সন্ধ্যায় দুই নির্বাচন কমিশনার সুরাইয়া আখতার জাহান ও ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমানকে নিয়ে বাফুফে ভবনে প্রথম সভায় বসেছিলেন মেজবাহ। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হবে সেই আশায় আগে থেকেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন সংবাদকর্মীরা। তবে নির্বাচনী তফসিলের জন্য অপেক্ষায় রাখলেন তিনি। ২০০৮, ২০১২, ২০১৬ ও ২০২০ নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে মেজবাহ এতদিনের বিতর্কটাই উসকে দিলেন, 'বিগত চার নির্বাচনের মধ্যে প্রথমটা ব্যতিক্রমী। তখন রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় ছিল না; সামরিক সরকার ছিল। আমরা সামরিক সরকার থেকে কোন প্রকার চাপ কিংবা কোন প্রকার ইঙ্গিত, কোনরকম আভাস পাইনি। পরের তিনটি নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন হিসেবে কখনই কোন রাজনৈতিক পক্ষ হাজির হয়নি। যেটা হয়েছে সেটা হলো প্রার্থী হওয়া, না হওয়ার মধ্যে রাজনৈতিক সরকারের প্রভাব কাজ করেছে। সেটা আমার ইস্যু না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসছে বলে অমুক জিতবে, আমি যাবো না। কিংবা অমুক দাঁড়িয়েছে, তাকে আমি বসিয়ে দিবো, এসব ছিল আমার আওতার বাইরে।'

অন্তবর্তী সরকারের অধীনে হতে যাচ্ছে এবারের নির্বাচন। তাই মেজবাহও আশাবাদী একটা প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের ব্যাপারে, 'সামনে যে নির্বাচন, এটা সেই ২০০৮ সালের নির্বাচনের মতো, এখন কোন রাজনৈতিক সরকার নেই। সুতরাং প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে তেমন কোন....। আগের যে হাওয়া ছিল, সেই হাওয়াটা এখন আর নেই, ভেগে গেছে। আশা করি মুক্ত পরিবেশে আবার সুন্দর একটা ভোট হবে। এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করছি, এটা আমার শেষ ভোট। আমার চারটা নির্বাচনে একজন ব্যক্তি জিতবে, এই অপবাদ থেকে আমি আশা করি বের হয়ে আসতে পারবো।' তারপর যোগ করেন, 'এ সব কিছু কিন্তু নির্বাচন কমিশনের বাইরে, ভোটকে আপনি দোষী করতে পারবেন না। আমরা যতই নির্বাচন কমিশনকে গালি দেই, ভোট তো নির্বাচন কমিশন করে না। ভোট করে কে? ভোটার এবং প্রার্থী। (সালাউদ্দিন সাহেব) প্রভাব বিস্তার করেছেন বাইরে, হলের ভেতরে না। সেট হলো প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে। যেমন ধরেন ২০১২ সালে যখন নির্বাচন হয়, রহিম সাহেব (আব্দুর রহিম) প্রার্থী হয়েছিলেন। উনি বাধ্য হয়েছেন আবেদন করতে আমার কাছে যে আমি প্রত্যাহার করলাম। ততক্ষণে প্রত্যাহারের সময় শেষ। আমি বললাম আপনার প্রত্যাহারপত্র আমি গ্রহণ করতে পারবো না কারণ সময় শেষ। উনি কেন বাধ্য হলেন? এই প্রশ্নের জবাব আপনারা বের করেন, আমি এর জবাব দিবো না। তারপর মনি লাল ফার্নান্দোকে ব্যবহার করা হয়েছে, ফিফার প্রতিনিধি। কংগ্রেসের ভোট নিতে হয়েছে। আমি নিজে কোন সিদ্ধান্ত নেইনি। কংগ্রেস অথবা ফিফার সিদ্ধান্তে তার ব্যালটপেপার সরানো হয়েছে। এই যে কেন সরানো হলো, এই প্রশ্নের মধ্যেই আপনার প্রশ্নের উত্তর আছে। 

'এরপর ২০২০ সালে বাদল রায় প্রত্যাহার করতে চেয়েছিলেন, তবে আমরা রাজি হইনি। কেন প্রত্যাহার করতে চেয়েছিলেন, সেটা তো আপনারা ভালো জানেন, আমি জবাব দিলে তো সমস্যা (হাসি)। আমি তো কোন দলের না। আমি যেটা বলি, ফুটবল, ক্রিকেট, অন্য যে কোন খেলা রাজনৈতিক আশ্রয়ে যাবে কেন? এখানে রাজনীতি ঢুকবে কেন?'

সালাউদ্দিন ঘোষণা দিয়েছেন তিনি আসছে নির্বাচনে প্রার্থী হবেন না। তবে বিদায় বেলায়ও সমালোচনা পিছু নিলো তার। নিজে নির্বাচন না করলেও তার অনুসারী অনেকেই এখন নির্বাচনমূখী। পুরানো বিতর্ক মেজবাহ খুচিয়ে দেওয়ায় এখন তাদের জন্য ভোটের সমীকরণ মেলানো পড়েছে চ্যালেঞ্জের মুখে। 

গত নির্বাচনে ভোট গণণা নিয়ে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন মেজবাহ, 'গণণার হয় সবার সামনে, দুই, তিন বা চার পক্ষের প্রতিনিধি আমাদের সামনে উপস্থিত থাকে। সবার সামনে ব্যালট পেপার খোলা হয়, আমরা ঘোষণা করি এই ব্যালটের ভোট কে কে পেলো, একটা একটা করে ঘোষণা করা হয়। দেখায় দেখায় যদি ফল বলা হয়, তারপর্ যদি কেউ বলে যে ভুল বলছেন, এই প্রশ্ন তো আমলে নেওয়া যাবে না।'

বাফুফের আলোচিত নির্বাচন হতে বাকী আর ২০ দিন। এর আগে বিদায়ী সভাপতির নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। মেজবাহকে দায়িত্ব দেওয়া সালাউদ্দিন ও তার আস্থাভাজনদের এখন নিজেদের চুল ছেড়ার জোগাড়। নির্বাহী সভায় তারাই যে আস্থা রেখেছেন মেজবাহর ওপর।