বৈরুতে ভয়াবহ হামলার পর নিখোঁজ ইরানের কুদস ফোর্স প্রধান

গত বৃহস্পতিবার লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। ওই হামলার পর থেকেই খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না ইরানের এলিট ফোর্স কুদস বাহিনীর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইসমাইল কানির।

তাঁর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সোমবার ইরানের দুই সিনিয়র নিরাপত্তা কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

দুই সিনিয়র নিরাপত্তা কর্মকর্তার একজন জানান, সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরাল্লাহ নিহতের পর লেবাননে গিয়েছিলেন ইরানের কুদস বাহিনীর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইসমাইল কানি। তবে গত সপ্তাহে বৈরুতে ইসরায়েলি হামলার পর থেকে যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন তিনি।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, গত বৃহস্পতিবার বৈরুতে হিজবুল্লাহর সিনিয়র কর্মকর্তা হাশেম সাফিউদ্দীনকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ওই হামলার সময় দক্ষিণ শহর দাহিয়েহতে অবস্থান করছিলেন ইসমাইল কানি। তবে তিনি (ইসমাইল কানি) হিজবুল্লাহ নেতা হাশেম সাফিউদ্দীনের সাথে দেখা করেননি বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

হিজবুল্লাহর সাবেক প্রধান হাসান নাসরাল্লাহ নিহতের পর থেকে হাশেম সাফিউদ্দীনকে হিজবুল্লাহর সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে ধারণা করা হয়। তবে এই হামলার পর থেকে খোঁজ মিলছে না হিজবুল্লাহর সিনিয়র কর্মকর্তা হাশেম সাফিউদ্দীন ও ইরানের কুদস বাহিনীর প্রধান ইসমাইল কানির।

অন্যদিকে দ্বিতীয় ইরানি কর্মকর্তা জানান, নাসরাল্লাহ হত্যাকাণ্ডের পর ইসমাইল কানি লেবাননে গিয়েছিলেন এবং সফিউদ্দীনকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি হামলার পর থেকে ইরানি কর্তৃপক্ষ তার সাথে যোগাযোগ করতে পারছে না।

এদিকে এ বিষয়ে হিজবুল্লাহর একজন কর্মকর্তা বলেন, অব্যাহত ইসরায়েলি হামলার কারণে দাহিয়েহ এর যেখানে আক্রমণ হয়েছে সেখানে উদ্ধার তৎপরতা চালানো যাচ্ছে না। অনুসন্ধান শেষ হলেই কেবল সাফিউদ্দীনের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা জানা যাবে এবং ঘোষণা করবে হিজবুল্লাহ।

বৈরুতে ইসরায়েলি হামলায় ইসমাইল কানি নিহত হতে পারে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে ইসরায়েলের সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি বলেন, হামলার ফলাফল এখনও মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ইসরায়েল গত সপ্তাহের শেষ দিকে দাহিয়েহতে হিজবুল্লাহর গোয়েন্দা সদর দফতরে হামলা চালিয়েছে।

তিনি সাংবাদিকদের সাথে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, “যখন আমাদের সেই হামলার আরও সুনির্দিষ্ট ফলাফল আসবে, আমরা তা জানাব। সেখানে কে ছিল এবং কে ছিল না তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে।”

কুদস ফোর্স, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের পাঁচটি শাখার মধ্যে একটি, যা অপ্রচলিত যুদ্ধ এবং সামরিক গোয়েন্দা কার্যক্রমে বিশেষজ্ঞ। ২০২০ সালে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় ইরানের এলিট ফোর্স কুদস বাহিনীর প্রধান জেনারেল কাসেম সোলেইমানির মৃত্যুর পর নতুন কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন ইসমাইল কানি।