‘অধিকার আদায়ে আর যেন শিশুদের রক্ত দিতে না হয়’

‘আমার ভাই ফারহান ফাইয়াজ তার জীবনকে উৎসর্গ করেছেন শিশুসহ সব মানুষের স্বাধীনতার জন্য, তাদের অধিকার রক্ষার জন্য। আমরা চাই তার স্বপ্নপূরণ হোক এবং যারা এই হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত তাদের শাস্তি নিশ্চিত হোক।’

গতকাল সোমবার বিশ্ব শিশু দিবস ২০২৪ উপলক্ষে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রাজধানীর ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জুলাই বিপ্লবে শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বোন অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলছিলেন এভাবেই।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ প্রধান অতিথির বক্তব্যে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আবার ৫০ বছর পরে যেন অধিকার আদায়ের জন্য কোনো শিশু-কিশোরকে রাস্তায় রক্ত দিতে না হয়।’

বিশ্ব শিশু দিবস উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী আয়োজনের সমাপনী হয় এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। এতে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমা মোবারেক, ইউনিসেফ প্রতিনিধি মিজ এমা ব্রিগহাম ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক তানিয়া খান। অনুষ্ঠানে অতিথিদের সঙ্গে একই মঞ্চে উপস্থিত থেকে নিজেদের কথা তুলে ধরেন শিশু বক্তা নাজিয়া আলম মমতা ও ফাহিম আহমাদ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই বিপ্লবে শহীদ শিশুদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে তাদের পরিবারকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

সম্মাননা গ্রহণকালে পরিবারের সদস্যরা শহীদদের জন্য দোয়া কামনা করে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে স্মারক প্রকাশের আবেদন জানান, যেন তাদের ত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসে সারাজীবন অক্ষুণœ থাকে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ বলেন, ‘৭১-এ আমি কিশোরী ছিলাম। তখনো শিশুরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিল, এই ২৪ সালেও তারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করল। দুবারই তারা ত্যাগ স্বীকার করেছে একটি সুন্দর দেশের স্বপ্নে। ৭১-এর স্বপ্ন ব্যর্থ হওয়ায় ২৪-এর আগমন ঘটেছে। কিন্তু আমরা চাই না ৫০ বছর পরে আবার শিশু-কিশোরদের রক্ত ঝরুক রাস্তায়। আমাদের এমন বাংলাদেশ গড়তে হবে, যেন তার প্রয়োজন না হয়। এর জন্য প্রয়োজন তোমাদের সহযোগিতা।’

তিনি তাদের উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, তোমরা কি এমন দেশ গড়তে সহযোগিতা করবে? উপস্থিত শিশুরা সমস্বরে ‘হ্যাঁ’ বলে তাকে সমর্থন জানায়। তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মিলনায়তনে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক তানিয়া খান, ইউনিসেফ প্রতিনিধি এমা ব্রিগহাম এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমা মোবারেক। বক্তারা এ বছরের বিশ্ব শিশু দিবসকে ভিন্ন ধরনের একটি শিশু দিবস উল্লেখ করেন। তারা বলেন, বাংলাদেশে এবারের শিশু দিবস এসেছে ভিন্ন রঙে, যা একই সঙ্গে বেদনার ও গর্বের। নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য শিশুরাও বড়দের সঙ্গে রাজপথে নেমেছে, যা একদিকে যেমন গর্বের বিষয়, তেমনি এর জন্য তাদের রক্ত ঝরেছে, এটা অত্যন্ত বেদনার।

আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তারা আবৃত্তি, গান ও নৃত্যনাট্যের মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবের ঘটনাবলি অতিথিদের সামনে তুলে ধরেন।