তাকে যখন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচ করা হলো, কত সমালোচনাই তো হয়েছিল। সেই লিওনেল স্কালোনির হাত ধরেই ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ জিতল আর্জেন্টিনা। টানা দুটি কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতে নিল। ধারাবাহিক এসব সাফল্যের পরও বদলে যায়নি স্কালোনির জীবনযাপন।
সম্প্রতি মিয়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আলোচনা সভায় অংশ নিয়েছিলেন স্কালোনি। সেখানেই তিনি দলের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা, খেলোয়াড়দের সাথে সম্পর্ক এবং বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর তার কর্মপরিধি এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কথা বলেছেন।
দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময় দলের ভালোর জন্য সিদ্ধান্ত নেই। প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আমরা দলের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেই। যখন একজন খেলোয়াড় দল থেকে বাদ পড়ে, সে যদি অসন্তুষ্ট হয়, সেটা ভালো লক্ষণ। কারণ এটি প্রমাণ করে যে সে খেলতে চায়, এবং দলকে সাহায্য করতে চায়। এটি একটি সময় যখন খেলোয়াড়কে প্রশিক্ষণ করতে হয় এবং নিজেকে প্রমাণ করতে হয়।’
এত সাফল্যের পরও নিজেকে সাধারণ হিসেবেই উপস্থাপন করেন স্কালোনি, ‘আমি স্বাভাবিকভাবেই সবকিছু পরিচালনা করি। আমার মনে হয়, আর্জেন্টিনায় ফুটবল খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু আমি চেষ্টা করি খেলোয়াড়দের জানাতে যে, আমরা সবাই শুধু একজন কোচ এবং একজন খেলোয়াড়। শুধু বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কারণে আমি অন্যদের থেকে শ্রেষ্ঠ নই কিংবা তারা যেন আমাকে একজন ভিনগ্রহের মানুষ হিসেবে না দেখে। আমরা চাই তারা আমাদের যেমন আছে তেমন দেখুক এবং বুঝুক যে, তাদের মধ্যেও কেউ একদিন কোচ বা উচ্চমানের খেলোয়াড় হয়ে উঠতে পারে।’
ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আর্জেন্টিনা কোচের ভাষ্য, ‘আমার জীবন তেমন পরিবর্তন হয়নি। আমি এখন রাস্তায় বেশি পরিচিত, মানুষ আমাকে চিনে, থামিয়ে কথা বলে। কিন্তু আমার চিন্তাধারা একইরকম আছে, কারণ আমি নিজেকে ব্যালান্সে রাখি এবং এটিই আমার পেশাগত জীবনের বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি।’