জবিতে খালেদা জিয়ার নামফলক পুনঃস্থাপন, হবে না ম্যুরাল

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ভিসি ভবনের সামনে নির্মাণ করা হচ্ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নামফলক ও ম্যুরাল। তিনি কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা দিয়েছিলেন জবিকে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতার নামফলকে আপত্তি না থাকলেও কোনো দলীয় ম্যুরাল চান না শিক্ষার্থীরা। 

শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে শুধু বেগম খালেদার জিয়ার নামফলক স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কার আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের মতবিনিময় সভায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেছিলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেছেন বেগম খালেদা জিয়া। এখন তার নামফলকও ক্যাম্পাসে নাই। সেগুলো পুনঃস্থাপন করা হবে। 

তারই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ভবনের সামনে বেগম খালেদা জিয়ার ম্যুরালসহ নামফলক স্থাপনের কাজ শুরু হয়। এতে শিক্ষার্থীরা আপত্তি জানান এবং ম্যুরাল বা কোনো প্রকার ছবি যেন নামফলকের পাশে দেওয়া না হয় এই বিষয়ে প্রশাসনকে জানান এবং সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা জানান, আমরা আশা করেছিলাম ফ্যাসিবাদের পতনের পর নতুন যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হবেন তিনি ২৪'র আন্দোলনের স্পিরিটকে ধারণ করবেন। তবে বর্তমান উপাচার্যের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে আমরা আশাহত হয়েছি। আমরা দেখতে পাচ্ছি, তিনি পূর্বের ফ্যাসিবাদের আমলের ভিসিদের পথেই হাঁটছেন। যে আন্দোলনের উদ্দেশ্যই ছিল লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি দূরীকরণ, উপাচার্যসহ পুরো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেই লেজুড়বৃত্তিকতার দিকেই হাঁটছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ২০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রায় ১১ ফুট দৈর্ঘ্যের ম্যুরাল স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি খালেদার জিয়ার অবদান শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি, আমরা চাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অবশ্যই তার কোনো স্মৃতি থাকুক। ফ্যাসিবাদ আমলে তার নামের যে নামফলক ভেঙে ফেলা হয়েছে সেটা সুন্দরভাবে গড়ে তোলাই হতে পারে তার স্মৃতিরক্ষার জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেই পূর্বের ন্যায় ম্যুরাল নির্মাণ করে ব্যক্তিপূজার রীতি চালু করতে চাচ্ছেন।

ম্যুরালের পরিবর্তে স্কেচ নির্মাণের সিদ্ধান্তে তারা জানান, আমরা শুধু নামফলক চাই সেখানে কোনো ছবি, মূর্তি বা স্কেচ থাকবে না। প্রয়োজনে মূল ফটক সংস্কার করে সেখানে বড় করে নামফলক থাকতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি কোনো ধরনের ম্যুরাল বা স্কেচ যেন না হয়। সেই অনুযায়ী আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে বেগম খালেদা জিয়ার নামফলক থাকবে। ডিজাইন পরিবর্তন হবে।