জুলাই-আগস্ট গণহত্যা

এক মাসের মধ্যে বিচারকাজ শুরুর আশা আইন উপদেষ্টার 

জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় হত্যা ও গণহত্যার অভিযোগের বিচারকাজ এক মাসের মধ্যে শুরু করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আইন ও বিচার উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। এ লক্ষ্যে এক সপ্তাহের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক প্যানেল প্রস্তত করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আজ বুধবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান তিনি। এর আগে বেলা ৩টার দিকে প্রধান বিচারতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন তিনি। 

তিনি বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালে বিচারের একটা বড় অগ্রগতি আজকে (গতকাল) হয়েছে। নতুন বিচারক নিয়োগ হয়েছে। আমরা যখন ট্রাইব্যুনালে বিচারক চাইতাম তখন আমাদের বলা হতো বিচারক সঙ্কট রয়েছে। আশা করি সেই সঙ্কট দূর হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে বিচারক নিযোগ হয়ে গেলে বিচার কাজের আরেকটা ধাপ শুরু হবে।’

এক প্রশ্নে আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমরা বিচার করবো,  এখানে কে অনুপস্থিত কে উপস্থিত দেখার বিষয় না। কারণ আমাদের আইনের মধ্যে অনুপস্থিত ব্যক্তির বিচারের বিধান আছে। অনুপস্থিত ব্যক্তিরা যেসব দেশে গেছেন তাদের যদি প্রত্যর্পণ চুক্তি থাকে তাহলে প্রত্যর্পণ করার জন্য আমরা চিঠি দিতে পারি। আমরা এখানে বিচার করার বিষয়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আশা করছি পুরোপুরিভাবে বিচার হয়তো মাসখানেকের মধ্যে শুরু হবে। এক সপ্তাহের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন হয়ে যাবে।’  

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোথায় আছেন— এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘উনি  (শেখ হাসিনা) কোথায় আছেন, এটা নিয়ে আমার মাথা ব্যাথা নেই। আমার মাথা ব্যাথা হচ্ছে একটি গ্রহণযোগ্য বিচারকার্য করা। উনি কোথায় আছে না আছে সেটা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখবে। আমার কথা হচ্ছে যদি বিচারকার্যের কোনো একটা স্টেজে উনার বা অন্য কারও যদি প্রত্যর্পণের প্রয়োজন হয় তখন আমি খোঁজ করবো।’

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কি নিয়ে আলাপ হলো— এমন প্রশ্নে আইন উপদেষ্টা বলেন, আপিল বিভাগের যে বিচারকেরা আছেন তাদের সঙ্গে আমার এখনো আনুষ্ঠানিক পরিচয়, দেখা ও কথা হয়নি। সেজন্য এসেছিলাম। বিচার বিভাগের যেসব ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে, আমাদের আইন মন্ত্রণালয় ও সুপ্রিম কোর্টের ক্ষেত্রে আরও যেসব সহযোগিতা প্রয়োজন সেগুলো নিয়ে কথা হেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘কিছু কিছু বিচারকের বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ আসছে, এটা শুধুমাত্র অবগত করার জন্য বলা হয়েছে। আমরা অবগত আছি, ওনারা (প্রধান বিচার ও আপিল বিভাগের অন্যান্য বিচারপতি) বলেছেন ওনারাও অবগত আছেন।’

বিচারকদের বিষয়ে পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটাতো আমাদের দাবি না। ছাত্র-জনতা যারা অন্দোলন করেছিল, যারা আমাদের এই মহান জুলাই বিপ্লব করেছিল, তারা মনে করছে কোনো কোনো বিচারক যারা যে ফ্যাসিস্ট শক্তি ছিল এবং ছাত্র-জনতার গণআন্দোলন বিপ্লবের প্রতিপক্ষ ছিল তাদের হয়ে দিনের পর দিন কাজ করেছে এবং তাদেরকে শক্তিশালী করেছে। তাদের ভূমিকা ছিল ফ্যাসিস্ট শক্তির পক্ষে ও গণতন্ত্রকামী মানুষের বিপক্ষে।’