বিষাদের সুর ছড়িয়ে টেনিসকে বিদায় নাদালের

টেনিস থেকে অবসর নিলেন রাফায়েল নাদাল। বৃহস্পতিবার নিজের অবসরের কথা জানিয়েছেন তিনি। নাদাল জানিয়েছেন, শেষ দুই বছর খুব কঠিন সময়ের মধ্যে কেটেছে তার। সেই কারণেই অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। অবসরের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেও আরও একটি প্রতিযোগিতায় খেলতে দেখা যাবে স্পেনের টেনিস তারকাকে। চলতি বছর নভেম্বর মাসে স্পেনের মালাগায় ডেভিস কাপ খেলে ছাড়বেন তিনি।

রজার ফেডেরার টেনিসকে বিদায় জানিয়েছিলেন একটি অডিও বার্তার মাধ্যমে। নাদাল জানালেন ভিডিও বার্তার মাধ্যমে। সেখানে নাদাল বলেন, ‘সকলকে জানাচ্ছি যে আমি পেশাদার টেনিস থেকে অবসর নিচ্ছি।’

গত দুই বছর চোটের কারণে ভুগেছেন নাদাল। প্রায় কোনো প্রতিযোগিতাতেই নামতে পারেননি। সেই কঠিন সময়ের কথা তুলে ধরেছেন ২২ গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক। তিনি বলেন, ‘গত দুই বছর খুব কঠিন সময়ের মধ্যে কাটিয়েছি। বার বার চোট পেয়েছি। প্রতিযোগিতা থেকে নাম তুলে নিতে হয়েছে। পুরো সুস্থ হয়ে আর কোনও দিনই খেলতে পারব না। তাই এটাই অবসরের সঠিক সময়।’

নাদাল জানিয়েছেন, ছোট থেকে টেনিস খেলতে ভালবাসতেন। কিন্তু জানতেন না, এতটা সাফল্য পাবেন। তিনি বলেন, ‘ছোট থেকে এই একটা খেলাই ভালবেসেছি। কোর্টে নামতে ভাল লাগত। এত দিন ধরে খেলব ভাবিনি। যা ভেবেছিলাম তার থেকে বেশি সাফল্য পেয়েছি। নিজের শেষ প্রতিযোগিতা যে নিজের দেশে খেলব, দেশের হয়ে খেলব, তাতে আমি খুব খুশি।’

২০২৩ সালের বেশির ভাগটাই চোটের জন্য কোর্টের বাইরে ছিলেন নাদাল। তখনই তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ২০২৪ সালেই অবসর নিতে পারেন তিনি, সেটাই হল। ২০০১ সাল থেকে পেশাদার টেনিস খেলা শুরু করেন নাদাল। তরুণ নাদাল চমক দিয়েছিলেন টেনিস দুনিয়াকে। বিশেষ করে লাল দুর্গের কোর্টে তার খেলা অবাক করেছিল। ধীরে ধীরে লাল দুর্গের কোর্টের রাজা হয়ে ওঠেন তিনি। ক্যারিয়ারে ২২টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতেছেন।

পুরুষদের সিঙ্গলসে দ্বিতীয় সর্বাধিক (শীর্ষে নোভাক জোকোভিচ) গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক তিনি। তার মধ্যে রয়েছে ১৪টি ফরাসি ওপেন। চারটি ইউএস ওপেন, দুই টি অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ও দুই টি উইম্বলডনও জিতেছেন তিনি। ২০০৮ সালে তিনি জিতেছিলেন বেইজিং অলিম্পিকের সোনা। ৯২টি একক শিরোপার পাশাপাশি আছে ১১টি ডাবলস শিরোপা। ফেদেরারের সঙ্গে তার দ্বৈরথ অমর হয়ে গিয়েছে। ২৩ বছর পেশাদার টেনিস খেলে অবশেষে থামলেন নাদাল। বলা ভাল চোটের জন্য থামতে বাধ্য হলেন তিনি।