ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে এক পথশিশুকে (৬) অপহরণ করে কুমিল্লায় নিয়ে গিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে সুমন মিয়া নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাতে অভিযুক্ত সুমন মিয়াকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে প্রতিবেশীরা। পরে এক প্রতিবেশীর মামলায় সুমনের স্ত্রী রিনা আক্তারকেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
জানা গেছে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে সুমন ও তার স্ত্রী রিনা ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে এক পথশিশুকে অপহরণ করে কুমিল্লার রেলওয়ে কোয়ার্টারে হারুন মিয়ার ভাড়া বাসায় আসে। সেখানেই থাকত তারা। বাসায় আনার পর স্ত্রী রিনা ঘরের বাইরে গেলেই সুমন বিভিন্ন সময় শিশুটিকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত। ওই শিশু কয়েকবার ধর্ষণেরও শিকার হয়। এতে অসুস্থ হয়ে পড়ে শিশুটি।
এ ছাড়া অনৈতিক কাজে বাধা দেওয়ায় শিশুটির চোখ-মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। গত মঙ্গলবার স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে সুমন ও রিনাকে আটক করে পিটুনি দিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে। পরে গভীর রাতে এক প্রতিবেশী ওই শিশুকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে থানায় মামলা করলে অভিযুক্ত দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিনুল ইসলাম বলেন, সুমন ও তার স্ত্রীকে স্থানীয় জনতা পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। গ্রেপ্তার সুমন শিশুটিকে কয়েকবার ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। তাকে পুলিশ পাহারায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার স্ত্রীকে বুধবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পথশিশুটির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে।