জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতি বাংলাদেশ (নাসিব)-এর সাবেক সভাপতি মির্জা নুরুল গনি শোভনসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে সরকারি ভ্যাট ট্যাক্সের টাকা আত্মসাৎ করার দায়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা হয়েছে।
সোনালী ব্যাংক মালিবাগ শাখায় সরকারি ভ্যাট ট্যাক্সের টাকা জমা না দিয়ে আত্মসাতের দায়ে শোভনের বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়। নাসিব জাতীয় সহায়ক কমিটির সদস্য ও নাসিব ময়মনসিংহ জেলা কমিটির সভাপতি মো. আব্দুল হামিদ বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট ঢাকায় সিআর মোকাদ্দমা নং ৪৯৪/২৪। মামলায় শোভন ছাড়াও নাসিবের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি মো. মুজিবুর রহমান বেলাল, সাবেক সহসভাপতি (দায়িত্বপ্রাপ্ত অডিট অ্যান্ড একাউন্ট) ইফতেখার আলী বাবু, নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুর রিফাত খান ও সাবেক হিসাবরক্ষক মো. শরিফুল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে। সিআইডিকে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে।
প্রভাব খাটিয়ে নিজের মালিকানাধীন দুটি প্রতিষ্ঠানের নামে পূবালী ব্যাংক টাঙ্গাইল প্রধান শাখা থেকে ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ঋণ নেন মির্জা নুরুল গণি শোভন। সেই ঋণের বর্তমান স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৪৮ হাজার ৭৬৭ টাকা। ঋণ আদায় করতে না পেরে নাসিব প্রশাসক বরাবর চিঠি দিয়েছে পূবালী বাংক।
বিগত আওয়ামী সরকারের মদদপুষ্ট দলের প্রভাব খাটিয়ে বিনা ভোটে নাসিবের সভাপতি হয়েছিলেন মির্জা নুরুল গণি শোভন। বাণিজ্য সংগঠন আইন লঙ্ঘন করে নাসিব গঠনতন্ত্রের তোয়াক্কা না করে টানা প্রায় ১৬ বছর নাসিবের কেন্দ্রীয় সভাপতির পদ দখল রাখে শোভন। শুধু তাই নয়, বাণিজ্য সংগঠন আইন লঙ্ঘন করে নাসিবের সভাপতি পদে ৫০ হাজার টাকা করে সম্মানী ভাতা নিতেন তিনি। প্রভাব খাটিয়ে ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বর পরিচালনা পর্ষদের মিটিংয়ে পাস করিয়ে নিজের জন্য বড় অংকের এই সম্মানী ভাতা চালু করেন শোভন।