বাংলাদেশ লিফট এসকেলেটর অ্যান্ড এলিভেটরস ইমপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের (বেলিয়া) উদ্যোগে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে ‘বেলিয়া এলিভেটর এক্সপো ২০২৪’।
গতকাল বৃহস্পতিবার রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সভাপতি মো. ওয়াহিদুজ্জামান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিন দিনের এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। প্রদর্শনীতে দেশ-বিদেশের ৭৬টি কোম্পানি লিফট, এসকেলেটর এবং বিক্রয়-পরবর্তী বিভিন্ন যন্ত্রাংশ অংশ নিয়েছে। প্রদর্শনীটি আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সবার জন্য খোলা থাকবে।
বাংলাদেশের লিফটের বাজার এখনো মূলত আমদানিভিত্তিক। বর্তমানে দেশের প্রতিযোগিতামূলক লিফটের বাজারে প্রায় ২০০ লিফট সরবরাহ কোম্পানি বছরে প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার লিফট ইনস্টল করে থাকে। দেশি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ওয়ালটন একটি কারখানা চালু করলেও কিছু যন্ত্রাংশ আমদানি করে। অনেক স্থানীয় কারখানা, বিশেষ করে পুরান ঢাকায় লিফটের বডি তৈরি করে এবং আমদানি করা কন্ট্রোলার এবং মোটর ব্যবহার করে লিফট অ্যাসেম্বল করে, কিন্তু এগুলোর প্রায়ই মান নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পাশাপাশি আমদানিকৃত লিফটের মান নিয়েও প্রশ্ন আছে।
অনুষ্ঠানে বেলিয়া সভাপতি এমদাদুর রহমান বলেন, লিফটের গুণগত মান পর্যবেক্ষণের জন্য কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা না থাকায় প্রকৃতপক্ষে ভূঁইফোড় বিপুলসংখ্যক কোম্পানি এখানে রয়েছে। তাই যে কেউ শুধু আমদানি লাইসেন্স নিয়ে লিফট আমদানি করতে পারে। তিনি আরও বলেন, বেলিয়ার অধিকাংশ সদস্যরাই এখন রিজেনারেটিভ মোটর ড্রাইভের লিফট আমদানি করে থাকে, যা ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে। এ ছাড়া সেন্সরভিত্তিক রিয়েল-টাইম মনিটরিং নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে যেকোনো সমস্যা অবিলম্বে চিহ্নিত করা ও তাৎক্ষণিক সমাধান দেওয়া হয়। ফলে একদিকে চলাচলের নিরাপত্তার উন্নতি করে, অন্যদিকে লিফটের ত্রুটির ঝুঁকি হ্রাস করে।
এক্সপো আয়োজক কমিটির সভাপতি ও ইউরো এলিভেটর লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়াদুল হক বলেন, লিফট ইনস্টলেশনের নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং মান নিশ্চিত জরুরি। কেননা বেলিয়ার সদস্য নয় এমন প্রায় ৯৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানগুলোর আমদানিকৃত লিফট নিরাপত্তা সমস্যার কারণে ব্যবহারযোগ্য নয়। তাই লিফট কেনার আগে গ্রাহকদের ব্র্যান্ড এবং প্রোভাইডার সম্পর্কে ভালোভাবে গবেষণা করা উচিত। এজন্যই বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে আমাদের ব্যবহারকারীদের পরিচয় করিয়ে দিতে বেলিয়া এলিভেটর এক্সপোর আয়োজন করা হয়েছে।
ইয়াদুল হক মনে করেন, ভবনগুলোয় ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ড লিফটের ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য সরকারকেও লিফটের ওপর ক্রমবর্ধমান আমদানি শুল্ক পুনর্বিবেচনা করা উচিত। উচ্চ আমদানি শুল্ক গ্রাহকদের জন্য লিফটকে আরও ব্যয়বহুল করে তোলে, যা গ্রাহকদের নিরাপত্তা উপেক্ষা করে কম দামের পণ্য কিনতে বাধ্য করে। এটি আমাদের বিক্রয়কেও প্রভাবিত করে।