খেলার ২০ মিনিটেই লাল কার্ড দেখেন বলিভিয়ার ফুটবলার হেক্টর কুয়েলার। তারপরও ১০ জনের দল নিয়েই তারা হারিয়েছে কলম্বিয়াকে। মিগুয়েল তেরেসউরেসের একমাত্র গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বলিভিয়া। বাবার মুক্তির পর চাপমুক্ত লুইস দিয়াজ যেন এখনও মানসিক ধকল কাটিয়ে উঠতে পারেননি।
তবে এই ম্যাচ শুরুর আগেই দুই দলের ম্যাচকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। যেখানে বলিভিয়ার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ তুলেছিল কলম্বিয়া। তাদের দাবি বলিভিয়া তাদের দলের প্রশিক্ষণ সেশনে গুপ্তচর পাঠিয়েছে, যা ম্যাচের আগে তাদের গোপনীয়তার লঙ্ঘন। অপরাধীকে শনাক্ত করে তার ছবি তুলে প্রমাণসহ অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা।
ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেছিলেন কলম্বিয়ার কোচ নেস্তর লরেঞ্জো। তবে বলিভিয়ার কোচ অস্কার ভিল্লেগাস এই অভিযোগকে তুচ্ছ করে বলেছিলেন যে, তাদের নিজেদের প্রশিক্ষণ সেশনের ছবিও ফাঁস হয়েছে, যদিও তা বন্ধ দরজার আড়ালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
যদিও তিনি সেই ব্যক্তির পরিচয় সরাসরি প্রকাশ করেননি, যাকে তারা গুপ্তচর হিসেবে শনাক্ত করেছেন। তিনি শুধু উল্লেখ করেছেন যে তারা তাকে শনাক্ত করতে পেরেছেন এবং তার ছবি তুলেছেন, কিন্তু সেই ব্যক্তি কে বা কীভাবে তিনি সেখানে পৌঁছেছিলেন, তা স্পষ্টভাবে জানাননি। লরেঞ্জো শুধু বলেছেন যে ঘটনাটি দলের গোপনীয়তার লঙ্ঘন ছিল এবং সেই ব্যক্তির ছবি নিয়ে প্রমাণ সহ তারা অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ বিষয়ে আরও তদন্ত করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে লরেঞ্জো বলেন, ‘এটি দুর্ভাগ্যজনক যে তারা আপনাকে গুপ্তচর পাঠায় এবং আমি জানি না তিনি কোথা থেকে এসেছিলেন বা কে ছিলেন, কিন্তু আমরা তাকে শনাক্ত করেছি। আমাদের কাছে ছবি আছে এবং আমরা ঘটনাটি রিপোর্ট করেছি, তিনি গোল কারাকোল-এর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেন। অবশ্যই, আপনি এমন একটি প্রশিক্ষণ করতে চান যেখানে আপনি গোপনীয়তা রক্ষা করতে পারেন, এবং যা ঘটেছে তা দলের গোপনীয়তার লঙ্ঘন ছিল। আমরা সেই ব্যক্তির ছবি তুলেছি, এবং আমরা দেখব পরবর্তী কয়েক ঘণ্টায় কীভাবে এগিয়ে যেতে হয়।’
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে এই গুপ্তচরবৃত্তি দলের গোপনীয়তা লঙ্ঘন করেছে, কারণ তারা নিজেদের কৌশল এবং প্রস্তুতি গোপন রাখতে চেয়েছিলেন। যদিও তিনি সরাসরি জানাননি কীভাবে সেই ব্যক্তি সেশন পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন, কিন্তু এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সেই ব্যক্তি হয়তো তাদের ট্রেনিং সেশনের আশেপাশে লুকিয়ে থেকে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন।
এদিকে লুইস দিয়াজের বাবা লুইস মানুয়েল দিয়াজ ২৩ দিন ধরে কিডন্যাপ থাকার পর সম্প্রতি তাকে কলম্বিয়ার সেনাবাহিনী ও পুলিশ সফল অভিযানের মাধ্যমে উদ্ধার করে। এই ঘটনা দিয়াজের জন্য এবং পুরো কলম্বিয়ার ফুটবল ভক্তদের জন্য খুবই আবেগপূর্ণ ছিল। লিভারপুলের হয়ে খেলা উইঙ্গার দিয়াজ এই সময়ে মানসিকভাবে চাপে ছিলেন, তবে তার বাবার মুক্তির পর তিনি এখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চেষ্টা করছেন এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচে কলম্বিয়ার হয়ে খেলতে প্রস্তুত রয়েছেন। কলম্বিয়ার আসন্ন বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে বলিভিয়ার বিপক্ষে লুইস দিয়াজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আশা করা হচ্ছিল। কিন্তু তিনি সবাইকেই হতাশ করেছেন।