মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক ডা. সাব্বির হোসেন খান। একসময় ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মৌলভীবাজার জেলার সভাপতি। একজন মেডিকেল অফিসার হিসেবে অবসরে গেলেও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ততার কারণে হয়ে ওঠেন জেলাটির স্বাস্থ্য সেবা খাতের নিয়ন্ত্রক। সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে নিয়োগ-বদলি হতো তার কথাতেই। তার ইশারায় চলত অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও কমিশন বাণিজ্যের উৎসব। তার রোষানলে পড়ে অনেকেই জেলা ছেড়ে চলে যেতেও বাধ্য হয়েছেন। তার এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ করতে গিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন সাংবাদিকরা। কিন্তু গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকেই আর দেখা মিলছে না ডা. সাব্বির খানের। একসময়ের দাপুটে ও দাম্ভিক এই চিকিৎসক দেশে আছেন নাকি দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন তা জানে না কেউ। বিএমএ বা তার পরিচালিত একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লোকজনও দিতে পারছেন না তার হদিস। পুলিশও জানে না তার কোনো খবর।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়ও আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসেবা না দেওয়ার অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে। গত ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থী ও জনতার সঙ্গে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গসংগঠনের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে আহত শিক্ষার্থীরা মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে তাদের সঠিক চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। সূত্র বলছে, বিএমএর সাবেক সভাপতি ডা. সাব্বির খানের নির্দেশে চিকিৎসক, নার্সরা আহতদের চিকিৎসা দেননি।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে ডা. সাব্বির খান ফেসবুকে একটি পোস্ট করে বলেন, ২৯টারে বিদায় করছি, লাল কার্ড দেখাইয়া। ভুল বুঝার কিছু নাই, রাজাকারমুক্ত করছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের সিনিয়র কয়েকজন নার্স বলেন, হাসপাতালে ডাক্তার সাব্বির খানের একক আধিপত্য ছিল। তিনি যা-ই বলতেন তাই করতে হতো। তার কথার বাইরে যাওয়ার সাধ্য কারও ছিল না।
সাব্বির খানের মামলার শিকার মৌলভীবাজার প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সাংবাদিক আজাদুর রহমান বলেন, ২০০৮ সালের মে মাসে ডাক্তার সাব্বির খানের মালিকানাধীন ইউনাইটেড কমপ্যাথ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে একজন যুক্তরাজ্য প্রবাসী মহিলা ডায়াবেটিসসহ কয়েকটি টেস্ট করান। সেই রিপোর্ট সিলেটসহ বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভুল প্রমাণিত হয়। সেই ভুল রিপোর্টের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবেদন করি। এই প্রতিবেদন প্রকাশ হলে ৫ কোটি টাকার মিথ্যা মানহানি মামলা করেন ডা. সাব্বির খান। সেই মামলাটি ২০১৮ সালে যুগ্ম জেলা জজ আদালত খারিজ করে। ওই চিকিৎসক আবার ২০২১ সালে আপিল করেন। মামলাটি এখনো চলমান আছে।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ডা. সাব্বির খান সদর হাসপাতালে নিয়োগ বাণিজ্য, কমিশন বাণিজ্য করে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করেন। প্রাইভেট হাসপাতাল এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে মাসোহারা নিতেন।
সার্বিক বিষয়ে কথা বলতে ডা. সাব্বির হোসেন খানের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে ফোন করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তার মালিকানাধীন ইউনাইটেড কমপ্যাথ ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকেও তার বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।