‘এশিয়ার সর্ববৃহৎ দল দাবি করা আওয়ামী লীগ আজ অস্তিত্বহীন। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী যিনি দাম্ভিকতার সাথে বলেছেন, হাসিনা পালায় না! অথচ ক্ষমতা ছাড়ার সাথে সাথে আওয়ামী লীগের সভানেত্রীসহ দলের শীর্ষ নেতারা লেজ গুটিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
শনিবার (১২ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর দনিয়ায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদের পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা বলেছিলেন আওয়ামী লীগের শেকড় বাংলার মাটিতে এমনভাবে প্রোথিত, শত চেষ্টা করেও একে কেউ উপড়ে ফেলতে পারবেও না, আওয়ামী লীগকে ছিন্নভিন্ন করা যাবে না।’
ড. মাসুদ বলেন, ‘, জনগণের কণ্ঠরোধ ও তাদের বুকে গুলি চালিয়ে, স্বৈরচারী হয়ে, দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করে জনগণের ভালোবাসা পাওয়া যায় না, যাবে না। জনগণের ভালোবাসা পেতে হলে জামায়াতে ইসলামীর মতো জনগণের পাশে থাকতে হবে, জনগণকে ভালোবাসতে হবে। জামায়াতে ইসলামীর ওপর শেখ হাসিনা যতই জুলুম নির্যাতন চালিয়েছে, একদিনের জন্যও জামায়াতে ইসলামীর কার্যক্রম বন্ধ ছিল না।
তিনি আরো বলেন, জামায়াতের একজন আমিরের ফাঁসি দেওয়ার আগেই আরেকজন আমির দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত থাকে এবং ছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর দল চালানোর জন্য একটা লোকও পাওয়া যায়নি। এতেই বুঝা যায়, শেখ হাসিনা দেশের মতো দলের ভেতরেও একনায়কতন্ত্র কায়েম করেছিল। শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র বুঝে না এবং বিশ্বাস করে না। তার জন্যই তারা একব্যক্তির কৃতিত্বে দেশ ও দল পরিচালনা করেছিল। জামায়াতে ইসলামী গণতন্ত্রে বিশ্বাসী বলেই জামায়াতে আমির যে কেউ হতে পারে। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা পরিবারের থেকে জামায়াতের আমির হয় না।’
জামাতের নেতা আরও বলেন, ‘আল্লাহ মানুষকে বিনা কারণে সৃষ্টি করেননি, আল্লাহর জমিনে দ্বীন কায়েমের জন্য মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। জামায়াতে ইসলামী দ্বীন কায়েমের আন্দোলনের জন্য যোগ্য মানুষ তৈরির কাজ করে। জামায়াতে ইসলামী এক আল্লাহর গোলামী করার কারণেই শুধু আওয়ামী লীগ নয় আরো অনেক বন্ধু দলও জামায়াতে ইসলামীকে ভয় করে। কেউ প্রকাশ্যে আর কেউ গোপনে ভয় করে। তাদের ভয়ের কারণ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে তারা চুরি করতে পারবে না, দুর্নীতি করতে পারবে না, জনগণের সম্পদ বিদেশে পাচার করতে পারবে না, সন্ত্রাসী করতে পারবে না।’
যাত্রাবাড়ী দক্ষিণ থানা আমির নওশেদ আলম ফারুকের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মতিউর রহমান খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সুধী সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের অফিস সম্পাদক ও কর্মপরিষদের সদস্য ড. মোবারক হোসাইন।
এতে আরো বক্তব্য রাখেন কদমতলী উত্তর থানা আমির আবদুর রহিম জীবন, কদমতলী উত্তর থানা শূরা ও কর্মপরিষদের সদস্য ওমর ফারুক, তালিমুল মিল্লাত মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা মিজানুর রহমান, কদমতলী উত্তর থানা নায়েবে আমির হালিম মিয়াজী, জামায়াত নেতা আবু সায়েদ, দনিয়া ওয়ার্ড সভাপতি মাওলানা মোস্তফা কামাল, দনিয়া ইসলামী ছাত্রশিবির সভাপতি আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।