সাগরপাড়ে মুখ বাঁধা অবস্থায় দেখা গেল অভিনেত্রী নওশাবাকে। একটি কালো কাপড় দিয়ে মুখ বাঁধা। একটি নৌকার সঙ্গে আঁচল বাঁধা, হাতে একতারা নিয়ে এগিওয়ে আসছেন। এর রহস্য ভেদ করলেন অভিনেত্রী নিজেই।
ওই ছবির ক্যাপশনেই লিখেছেন, দূর্গার সমুদ্র, অর্থাৎ শিল্প সমুদ্রের ন্যায় তাকে শেকল পড়াও, গলা চিপে ধরো,, লাভ নেই,,, শিল্পীর শিল্প সত্তার জোয়ারে ভেঙে যাবে সকল শেকল। দূর্গা কেবল মন্দিরে পূজনীয় দেবী নয়! তিনি প্রতিটি নারীর আত্মার প্রতিফলন। সমুদ্রের মতো তিনিও সর্বব্যাপী, সবকিছুকে আলিঙ্গন করেন এবং দূর্গা শান্তি ও বিজয়ের প্রতীক।
গত বছর নওশাবা দূর্গারূপে ভূমিকা দেখিয়েছিলেন ব্যস্ত ইটপাথরের রাজধানীর প্রেক্ষাপটে। এবার তার ফটোশুটের থিম ‘দুর্গার সমুদ্র’। তাই তার এবারের ছবিগুলোতে সমূদ্র বড় ভূমিকা পালন করেছে। প্রতিটি ছবিতে উঠে এসেছে সমুদ্র বিষয়ক নানা কার্যক্রম।
এবারের ফটোশুটটির সবচেয়ে বিশেষ দিক হল- সমসাময়িক রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়কে দেবী রূপে নারী শক্তির ঢেউয়ে প্লাবিত করার প্রয়াস করা হয়েছে। নওশাবা দুর্গার বেশে হাজির হয়ে তুলে ধরেছেন ধর্মীয় সম্প্রীতি, সমুদ্রের পরিবেশ দূষণ ইস্যু, দুর্গার মাতৃরূপ, সাহায্যকারী রূপ, ত্রাণকর্তার ভূমিকা ইত্যাদি।
এবারের দুর্গাপূজা উপলক্ষেও বিশেষ ফটোশুট ও ভিডিওচিত্র নির্মাণ করেছে নওশাবার ‘টুগেদার উই ক্যান’ ও ফটোগ্রাফি এজেন্সি ‘মোমেন্টওয়ালা’। পরিচালনা ও ফটোগ্রাফি করেছেন এমডি নাজমুল হোসাইন। নওশাবাকে দেবী দুর্গার বেশে সাজিয়েছেন ইমন হোসেন। ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘অঙ্গরাগ কুটির’-এর শাড়ি আর জুয়েলারি ব্র্যান্ড ‘খুঁত’-এর গয়না পরেছেন তিনি। ভিডিওর সঙ্গীতায়োজন করেছেন ইজাজ ফারাহ। সিনেমাটোগ্রাফি ও এডিটিং-এ ছিলেন ইমরানুজ্জামান সোহাগ। এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার অমিত সিনহা।
আয়োজন প্রসঙ্গে নওশাবা বলেন, “চার বছর ধরে মোমেন্টওয়ালার সঙ্গে দুর্গার ফটোশুট করে আসছি। এবারের থিম ‘দুর্গার সমুদ্র’। তাই তার ছবিগুলোতে সমুদ্রের ভূমিকা অনেক বড়। টুগেদার উই ক্যান ও মোমেন্টওয়ালার যৌথ প্রয়াস এটি। একজন শিল্পীর কাজই হচ্ছে তাঁর শিল্পের মাধ্যমে বার্তা দেওয়া। আমাদের টিমের প্রত্যেক মানুষ শিল্পী। কোলাবরেশনে কাজটি করেছি। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ ও নারীদের সঙ্গে যা হচ্ছে, শিল্পের মাধ্যমে তার বার্তা দিতে চেয়েছি। একটা ছবি দেখে যদি কারও ভেতরে বোধ জাগ্রত হয়, সেটাই আমাদের প্রাপ্য। আমরা চাই, বাংলাদেশ মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে পৃথিবীতে জায়গা পাক।”
এ অভিনেত্রী বলেন, চার-পাঁচ মাস ধরে পরিকল্পনা করেছি। দেড় দিনে শুট শেষ। পানিতে আমাকে অনেকবার চুবানো হয়েছে। ভেজা অবস্থায় আরেকটি শাড়ি পরে আবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছি। এটি তো আমরা লাভের আশায় করিনি। দিন শেষে কাজটি সবার ভালো লেগেছে বলে কষ্ট সার্থক। ৮ জনের টিম মিলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে শুটিং করেছি। সব সময় দেখেছি, কিছু মানুষ পাশে এসে দাঁড়িয়ে যায়।’