হুমকির দুই সপ্তাহের মধ্যে গুলিতে মারা গেলেন বাবা সিদ্দিকী

ভারতের মহারাষ্ট্রের প্রবীণ রাজনীতিবিদ বাবা সিদ্দিকী দুষ্কৃতিকারীদের গুলিতে মারা গেছেন। গতকাল রাতে মুম্বাইয়ের খের নগরে নিজের ছেলের অফিসের সামনে বাবা সিদ্দিকীর ওপর গুলি চালানো হয়। আহতাবস্থায় লীলাবতী হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
 
বিবিসি জানিয়েছে, ঘটনার ১৫ দিন আগে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বাবা সিদ্দিকীকে। সেই হুমকির মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় তার ওপর হামলা হয়েছে। 

বাবা সিদ্দিকী রাজ্যের সাবেক স্থানীয় মন্ত্রী ছিলেন। গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস থেকে সরে দাঁড়ান, এবং জাতীয়বাদী কংগ্রেস পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেন যা বিজেপির শাসক জোটের অংশ।

মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার বলেন, এমন কাপুরুষোচিত হামলা দেখে হতবাক হয়েছি। সমালোচনা করছে বিরোধী দলগুলোও। সরকারের সমালোচনা করে তারা বলছে, নিরাপত্তায় বড় ধরনের ত্রুটি ছিল। রাজ্য সরকার হত্যাকাণ্ড তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ইতোমধ্যে জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটক করা হয়েছে। তৃতীয় সন্দেহভাজনকে খুঁজছে পুলিশ।

এদিকে জাতীয়বাদী কংগ্রেস পার্টির নেতা বাবা সিদ্দিকীর মৃত্যুতে বি টাউনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সিদ্দিকীর সাথে বলিউড সুপারস্টারদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তবে তিনি বেশি আলোচনায় আসেন সালমান খান ও শাহরুখের খানের বন্ধুত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখে। এর আগে কয়েক বছর ধরে বলিউডের দুই প্রভাবশালী খানের মুখ দেখাদেখি বন্ধ ছিল।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, সন্দেহভাজনরা কুখ্যাত অপরাধী লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য। বিষ্ণোই র‌্যাপার সিধু মুসেওয়ালার হত্যাসহ বেশ কয়েকটি হাই-প্রোফাইল হত্যা মামলায় জড়িত থাকায় কারাগারে রয়েছেন।