এই দিনে

১৯৮৪ সালের এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন রবীন্দ্রবিশারদ পুলিনবিহারী সেন। তার জন্ম ১৯০৮ সালের ১১ আগস্ট, ময়মনসিংহে। খুব ছোটবেলায় তিনি তার মা বিজনবামিনী দেবীকে হারান। বাড়ির পণ্ডিতমশাই দেবেন্দ্রনাথ বিশ্বাসের কাছে পাঠাভ্যাস শুরু। ১৯২৫ সালে তাকে শান্তিনিকেতনে পাঠানো হয়। এখান থেকে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিশ্বভারতীর শিক্ষা ভবনে ভর্তি হন। শান্তিনিকেতনে আশ্রমের ঐতিহ্য ও নিয়ম অনুসারে তিনিও প্রতি বুধবার সকালে ‘উপাসনা গৃহ’ মন্দিরে যোগ দিতেন। কবির ভাষণ শুনতেন নিবিষ্ট মনে। এক দিন স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে তিনি সেই ভাষণ খাতায় লিখতে শুরু করেন। পরপর কয়েকটি ভাষণ লিপিবদ্ধ করার পর তিনি কবিকে দেখান। রবীন্দ্রনাথ পড়ে দেখার পর তাকে বলেছিলেন, ‘চমৎকার লিখেছিস তো! তোর বাংলা জ্ঞান বেশ ভালো।’ অচিরেই তিনি কবির স্নেহ লাভ করেন। স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে অর্থনীতিতে অনার্স এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি অর্থনীতিতে এমএ পাস করেন। ১৯৩৫ সালে প্রবাসী পত্রিকায় তার কর্মজীবন শুরু হয়। ১৯৩৯ সাল থেকে বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগে যোগ দেন। বিস্মৃতপ্রায় রবীন্দ্ররচনার সূচি ও সংকলন তার জীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অবদান। রবীন্দ্ররচনা, রবীন্দ্রজীবন ও বিস্তৃত কর্মের তথ্যনিষ্ঠ পরিচয় লিপিবদ্ধকরণ, আকর, পান্ডুলিপি, চিঠিপত্র, সমকালীন পত্রপত্রিকা সংগ্রহ ও সংরক্ষণে তার আজীবন নিরলস সাধনা ছিল। তিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে নিষ্ঠার সঙ্গে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে রবীন্দ্রচর্চা ও গবেষণায় অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। তার চেষ্টায় রবীন্দ্র গবেষণা, সংকলন, সম্পাদনা, মুদ্রণ ও পুস্তকাকারে প্রকাশে এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। রবীন্দ্রজীবন ও সাহিত্যের ভাণ্ডারি হিসেবেও তাকে অভিহিত করা হয়।