সবুজ আগামীর প্রত্যয়ে হাতিলের ‘গ্রিন ইনিশিয়েটিভ’

প্রতিদিন আমাদের কাজের মাধ্যমে কোনো না কোনোভাবে আমরা পরিবেশে পরিবর্তন আনার সুযোগ পাই। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেখানে শুন্য কার্বন নিঃসরণের প্রতি জোর দেওয়ার কথা ভাবছে, সেখানে হাতিল ইতিমধ্যে দেশের পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার কাজ করে যাচ্ছে।

কার্বন ফুটপ্রিন্ট বলতে মূলত গ্রিনহাউজ গ্যাসের, আরও স্পষ্ট করে বললে কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গমনকে বোঝায়। গাড়ি চালানো, কারখানার কার্য প্রক্রিয়া, বিদ্যুৎ ব্যবহারের মতন দৈনন্দিন কাজের মাধ্যমে আমরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কার্বন নির্গমনে অংশ নিচ্ছি। এভাবেই নিজের অজান্তে আমরা গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের কারণে সৃষ্ট সমস্যাগুলি বৃদ্ধিতেও অংশগ্রহণ করছি। আর ধীরে ধীরে এইসবের প্রভাব আমাদের ভবিষ্যতকে ঝুঁকিতে ফেলছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাই প্রতিটি মানুষেরই নিজের জায়গা থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

শুধুমাত্র একটি গাছ আমাদের কল্পনার চেয়েও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। একটি গাছ গড়ে যতটুকু কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গমন করে, তার দ্বিগুণেরও বেশি পরিমাণ কার্বন-ডাই-অক্সাইড সে শোষণ করে এবং ধরে রাখে। একটি পরিপক্ক গাছ প্রতি বছর প্রায় ৪৮ পাউন্ড (২১.৭৭ কিলোগ্রাম) কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং তার জীবদ্দশায় প্রায় এক টন নির্গমন হ্রাস করে। এই কারণেই গাছ আমাদের ইকোসিস্টেমের জন্য অপরিহার্য।

এখন ভাবুন তো একটি গাছ যদি এই প্রভাব ফেলতে পারে তাহলে ১৪০০টিরও বেশি গাছ রোপণের সম্মিলিত প্রভাব কতটা বিস্তর হতে পারে? একযোগে তারা বার্ষিক ৬৭ হাজার পাউন্ডের বেশি কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণ করতে পারে এবং ১৪০০ টনেরও বেশি নির্গমন হ্রাস করতে পারে। আর এই প্রচেষ্টায় হাতিল তার ‘গ্রিন ইনিশিয়েটিভ’-এর মাধ্যমে ১৪০০টিরও বেশি গাছ গ্রাহকদের রোপণের জন্য দিয়েছে। এই গাছগুলো আমাদের কার্বন ফুটপ্রিন্ট হ্রাস এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার দিকে একটি শক্তিশালী পদক্ষেপের প্রতিনিধিত্ব করবে বলে মনে করে প্রতিষ্ঠানটি। হাতিল-এর উদ্যোগটি বাস্তবায়নের জন্য গ্রিন সেভারস নামের একটি সংস্থা গাছগুলোর পরিচর্যায় সহযোগিতা করছে।

শিল্পায়নের বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে, পরিবেশ রক্ষার জন্য কার্বন ফুটপ্রিন্ট হ্রাসের দিকে নজর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেই সংকল্পে হাতিল-এর চেয়ারম্যান সেলিম এইচ রহমানের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি ফার্নিচার শিল্পের সংস্কৃতি পরিবর্তনের পাশাপাশি সাসটেইনেবিলিটির জন্যও নেতৃত্ব দিচ্ছে।

‘সাসটেইনেবিলিটির প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি যেন আমাদের কার্যক্রমে প্রতিফলিত হয়, সেই বিষয়ে আমরা বিশেষ নজর দিয়ে থাকি। এফএসসি সার্টিফাইড বনের কাঠ সংগ্রহ থেকে শুরু করে আমাদের কারখানা চালানোর জন্য নবায়নযোগ্য শক্তি পর্যন্ত, প্রতিটি বিষয় আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’, বলেন হাতিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান।

তিনি আরও বলেন, ‘গাছ রোপণ করা সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকরী উপায়, যার মাধ্যমে আমরা একটি সুস্থ বাংলাদেশের জন্য অবদান রাখতে পারি”। এভাবেই গাছ রোপণের মাধ্যমে কার্বন ফুটপ্রিন্ট হ্রাস করে হাতিল একটি সবুজ আগামী গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছে।’