দ্বন্দ্বে কর্মকর্তারা দুর্ভোগে রোগীরা

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান দুই কর্মকর্তার দ্বন্দ্বের কারণে আউটডোরের সেবা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে করে গতকাল সোমবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সেবা নিতে আসা শত শত রোগী চরম ভোগান্তির শিকার হয়। হাসপাতালের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. আবদুস সোবহান ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. এনামুল হক সোহেলের মধ্যেকার দ্বন্দ্বের বিষয়টি উল্লেখ করলেও গতকালের পরিস্থিতির জন্য হাসপাতালের স্টোর কিপার রানা মিয়ার অনুসারীদের দায়ী করছে কেউ কেউ। অবশ্য রানা মিয়ার ভাষ্য, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. এনামুল হক সোহেলের লোকজন চিঠি দিয়ে তার কাছে চাঁদা দাবি করায় সহকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতালে তালা ঝুলিয়েছে। হাসপাতালে বহির্বিভাগের একজন চিকিৎসককে ধাওয়া ও হামলার ঘটনায় সব চিকিৎসক নিরাপত্তাহীনতার কারণে সেখানে আর যাননি। তবে এ সময় জরুরি বিভাগের সেবা কার্যক্রম চালু ছিল।

গতকাল সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখা যায় বহির্বিভাগ ছাড়াও অন্য গেটগুলোতে তালা দেওয়া হয়েছে। কর্মচারীরা বলছেন, টিএইচও আবদুস সোবাহান ও আরএমওর ডা. এনামুল হক সোহেলের অপসারণ চেয়ে তাদের কর্মবিরতি চলছে। এর আগে টিএইচও বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে জেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বরাবর অভিযোগও করা হয়েছিল। তবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা নিতে আসা রোগীরা বলেন, ‘আমরা ডাক্তার দেখাতে এসেছি কিন্তু দেখি হাসপাতালে কোনো ডাক্তার নেই। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ডাক্তার না পেয়ে চলে যাচ্ছি। হাসপাতালের কর্মকর্তাদের দ্বন্দ্বের কারণে আমরা সাধারণ মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। আমরা সঠিক সেবা চাই।’

একটি সূত্র জানায়, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. এনামুল হক সোহেলের বাবার হক ন্যাশনাল ক্লিনিকের কয়েকজন লোক হাসপাতালের স্টোর কিপার রানা মিয়ার কাছে একটি খোলা চিঠি দিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার সকাল থেকে হাসপাতালের কর্মচারীরা ওই দুই কর্মকর্তার অপসারণের দাবিতে কর্মবিরতি ও গণস্বাক্ষর দেন।

হাসপাতালের স্টোর কিপার রানা মিয়া বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান দুই কর্মকর্তার দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের কারণে হাসপাতালে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। সাধারণ মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, গতকাল রাতে দুজন ব্যক্তি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগের চিঠি নিয়ে আসে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হাসপাতালের কর্মচারীরা কর্মবিরতি দিয়েছেন। আমরা হাসপাতালের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরে পাওয়াসহ এই দুই কর্মকর্তার অপসারণ চাই।

হাসপাতালের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম বলেন, টিএইচও আবদুস সোবাহান এবং আরএমও এনামুল হক সোহেলের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে হাসপাতালে অরাজকতা হচ্ছে। ওই দুই কর্মকর্তার অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।

টিএইচও আবদুস সোবাহান বলেন, আরএমওসহ কয়েকজন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। হাসপাতালের তালা ঝুলানোর বিষয়টি জানা নেই। তিন চিকিৎসক চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন হাসপাতালে। যারা হাসপাতালে আসেননি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেলা সিভিল সার্জন মিনহাজ উদ্দিন মিয়া জানান, হাসপাতালের দুই কর্মকর্তার সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি জানার পর নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলেও তারা কেউ কথা শোনেনি। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ঘটনাটি জানানো হয়েছে।

এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ফাহিমা বিনতে আখতার হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।