উপদেষ্টাদের অনেকেই আজীবন ক্ষমতায় থাকতে চান: মেজর হাফিজ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) এম হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘এই সরকার গঠিত হয়েছে জনরায়ে, জনগণের ইচ্ছায়। কিন্তু যতই দিন যাচ্ছে আমরা ধীরে ধীরে হতাশ হচ্ছি। প্রফেসর ড. ইউনূস দেশের কৃতি সন্তান, সারা বিশ্বব্যাপী তার পরিচিতি। তিনি ক্ষমতায় থাকতেও চান না, আগেও তাকে অফার করা হয়েছিল, থাকেননি। এখনও যে তিনি খুব ইনজয় করছেন তা মনে হয় না। কিন্তু একটা কথা আমার বলতে হচ্ছে- তার টিম সিলেকশনটা ঠিক হয়নি। তিনি যাদেরকে সঙ্গে নিয়েছেন, তাদের অনেকের আজীবন ক্ষমতায় থাকার ইচ্ছা আছে। প্রকাশ করতে হয়তো পারেন না, কিন্তু ভাবভঙ্গিতে এমনই মনে হয়।’

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশ লেবার পার্টি আয়োজিত ‘গণঅভুত্থানে জন-আকাঙ্খা: রাষ্ট্র মেরামতের প্রস্তাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় মেজর হাফিজ এ কথা বলেন।

হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘ছয়টি কমিশন করা হয়েছে। এর প্রজ্ঞাপন করতেই ৬ দিনের বেশি সময় লেগেছে, যেটা দুই দিনের বেশি লাগার কথা না। ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষ হতাশ হয়ে যাচ্ছে। পতিত শক্তি আবার ফিরে আসতে চায়। আনসার বাহিনী পর্যন্ত ক্যু করতে চায়, এমনই দুর্বল একটা সরকার।’

তিনি বলেন, ‘প্রফেসর ইউনূস একেক জন উপদেষ্টাকে চারটা-পাঁচটা করে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন। বিশেষ করে এদের কোনো অভিজ্ঞতাই তো নেই। এই ব্যাপারে তাকে চিন্তা করতে হবে। অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্য থেকে ভালোদের নিয়ে দায়িত্ব দেন। দরকার হলে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন যারা করেছে, সেই ছাত্রদের কাছ থেকে আরও নেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের টিমে খেলে এসেছেন অতীতে, তাদেরকে আর মন্ত্রিপরিষদে আমরা দেখতে চাই না।’ 

এ সময় সভায় রাষ্ট্র মেরামতের ২৩ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, বাংলাদেশ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশনের অ্যালবাট পি কস্টা, জানিপপের নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ প্রমুখ।