পিছিয়ে থাকা অঞ্চলের মেয়েদের শিক্ষার প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধান এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতের লক্ষ্যে প্রয়োজন সরকার, সুশীল সমাজ, বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় নেতাদের সমন্বিত উদ্যোগ। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার গুলশানের ইএমকে সেন্টারে জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের এক অ্যাডভোকেসি ডায়ালগ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এ কথা বলেন।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘সংস্কার হলো মূলত মানসিকতার পরিবর্তন করা। আমরা যদি মেয়েদের শিক্ষায় বিনিয়োগ করতে পারি, তবে তারা কেবল নিজেরাই ক্ষমতায়িত হবে না, বরং আমাদের সামগ্রিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। তাই মেয়েদের শিক্ষার প্রতিবন্ধকতা দূর করতে এবং জলবায়ু পরিবর্তন প্রভাবিত এলাকাগুলোতে মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে, সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাই। অ্যাডভোকেসি ডায়লগটির মূল উদ্দেশ্য ছিল মেয়েদের শিক্ষার প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করা এবং তা দূরীকরণের সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা করা। এ ছাড়া মেয়েদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে অংশীজনদের মধ্যে সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
অ্যাডভোকেসি ডায়লগে ‘বাংলাদেশে জলবায়ু-প্রবণ অঞ্চলের মেয়েদের শিক্ষাগত বৈষম্য দূর করার মাধ্যমে ক্ষমতায়ন একটি উজ্জ¦ল ভবিষ্যতের পথ প্রদর্শক’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনার আয়োজন করা হয়। আলোচকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স, ব্র্যান্ড ও মার্কেটিংয়ের কান্ট্রি হেড বিটপী দাশ চৌধুরী, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্সের অধ্যাপক ড. এসএম হাফিজুর রহমান প্রমুখ।
জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের চেয়ারম্যান করভি রাকসান্দ বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা, যা তাদের সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ করে দেয়। একসঙ্গে কাজ করে আমরা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চাই যেখানে প্রতিটি শিশু, বিশেষ করে মেয়েরা, নির্ভয়ে তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে এবং সমাজের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, অদম্য (অপারেটিং ডাইভারসিফাইড অপরচুনিটিস ইন ম্যাস-মিটিগেশন অব অবস্ট্যাকলস অব গার্লস এডুকেশন) প্রকল্পের আওতায় কমিউনিটি ভিত্তিক গার্লস ক্লাব গঠন, বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বাল্যবিবাহ, যৌন হয়রানি, এবং স্যানিটারি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।