গণঅভ্যুত্থানে হাত হারানো আতিক ফের মিছিলে

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে একহাত হারানো আতিকুল ইসলামকে ফের বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিতে দেখা গেছে। আজ বুধবার (১৬ অক্টোবর) ‘আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট’ বিচারকদের পদত্যাগ ও বিপ্লবের গণহত্যা বিচারের দাবিতে হাইকোর্ট ঘেরাও কর্মসূচিতে সামনের সারিতে দেখা গেছে তাকে। এর আগে হাত হারানো এই যুবকের একটি বক্তব্য স্যোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। গত ৫ আগস্ট উত্তরার আজমপুরে হাতে গুলিবিদ্ধ হোন আতিক। পরে পঙ্গু হাসপাতালে তার ডান হাত কেটে ফেলা হয়। 

জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল) দীর্ঘদিন ভর্তি থাকার পর আতিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফিরেছেন। ওই হাসপাতালে থাকাকালে আতিক এক বক্তব্যে বলেন, ‘প্রয়োজনে আরেক হাত দিয়ে দিব, যদি তাতেও না হয় তাহলে জীবন দিয়ে দিব। স্বৈরাচার সরকার যদি আবার দেশে আসে, ওকে পতন ঘটানোর জন্য আবার যুদ্ধ করবো। যদি ডাক পড়ে তাহলে আবার মাঠে নামবো।’ হাত হারানো আতিক গতকাল হাইকোর্ট ঘেরাওয়ের কর্মসূচির খবর জেনে আজ সেই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী লে. কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত মুহাম্মদ ফারুক খান এবং ড. আব্দুর রাজ্জাকের রিমান্ড আবেদন শুনানির সময় গতকাল আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল করেন আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরা। আইনজীবীদের বিক্ষোভের পর গতকাল রাতেই ‘আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট’ বিচারকদের পদত্যাগের দাবিতে  হাইকোর্ট ঘেরাও কর্মসূচির ডাক দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম দুই সমন্বয়ক সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহ।

সেই কর্মসূচি ঘিরে আজ বুধবার (১৬ অক্টোবর) বিচারপতিদের পদত্যাগের দাবিতে হাইকোর্ট ঘেরাওয়ের উদ্দেশ্যে রাজু ভাস্কর্যে থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে হাইকোর্টে যান শিক্ষার্থীরা। সেই  মিছিলে শুরু থেকেই দেখা গেছে আতিককে। এমনকি হাইকোর্ট প্রাঙ্গনে সমন্বয়ক হাসনাত ও সারজিশের পাশেই তাকে থাকতে দেখা গেছে। 

এদিকে ‘আওয়ামী লীগ মদদপুষ্ট’ বিচারকদের অপসারণ চেয়ে অল্টিমেটাম দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয় হাসনাত আব্দুল্লাহ। আজ বুধবার দুপুর ২টার মধ্যে বিচারকদের অপসারণের সময় বেধে দিয়েছেন তিনি। দাবি আদায় না হলে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। আজ বুধবার (১৬ অক্টোবর) হাইকোর্টের এনেক্স ভবনে সামনে এ ঘোষণা দেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। একই সঙ্গে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান তিনি।