‘মেডিকেল সেন্টার নাকি নাপা সেন্টার’ প্রশ্ন ইবি শিক্ষার্থীদের

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) চিকিৎসাকেন্দ্রের সেবার মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। চিকিৎসক-নার্স সংকট, ওষুধের অপর্যাপ্ততা, ঠিকমতো শিক্ষার্থীদের রোগের কথা না শোনা, সব রোগের চিকিৎসা হিসেবে নাপা দেওয়াসহ চিকিৎসা কেন্দ্রটি নিয়ে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে শিক্ষার্থীদের। এসব সংকটের কথা শিক্ষার্থীরা বহুবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। কিন্তু আশ্বাসের মধ্যেই সেই সংকট সমাধান আটকে যায়।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, যে কোন রোগ নিয়ে মেডিকেল সেন্টারে গেলেই নাপা দেওয়া হয়। মনে হয় নাপা ছাড়া অন্য কোন ওষুধ নেই। এটা মেডিকেল সেন্টার নাকি নাপা সেন্টার তা নিয়ে আমরা সন্দিহান।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিকেল সেন্টারটি চালু হয় ১৯৯৫ সালে। বর্তমানে প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়টিতে পড়াশুনা করছেন। এত শিক্ষার্থীর বিপরীতে এখন মেডিকেল সেন্টারটিতে রয়েছেন ১৩ জন চিকিৎসক। যারা শিফট অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেন। তাদের অনেকেই আবার বিভিন্ন সময় ছুটিতে থাকেন। এছাড়াও চিকিৎসা কেন্দ্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষার আধুনিক যন্ত্রাংশ থাকলেও দক্ষ জনবলের অভাবে তা ব্যবহার হয় না। ফলে আধুনিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৮  হাজার শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ‘কোন শিক্ষার্থী মেডিকেল সেন্টারে গেলে তার অসুস্থতা শোনার আগেই নাপা সাজেস্ট করা হয়। কিছু কিছু ডাক্তার ডিউটিরত অবস্থায় সিগারেট খান ও কানে হেডফোন দিয়ে গান শুনেন। শিক্ষার্থীদের বসিয়ে রেখে মোবাইলও চালান। কার্যত রোগীর বিষয়ে চিকিৎসকরা উদাসীন থাকেন। চিকিৎসার জন্য গেলে তারা বিভিন্ন অজুহাত দেখান। এটা নেই, ওই ডাক্তার আসেননি, কাল আসেন ইত্যাদি ইত্যাদি কারন দেখিয়ে থাকেন তারা। এছাড়াও সেখানকার কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিভিন্ন সময় অসৌজন্যমূলক আচরণ করে থাকেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী সারোয়ার জাহান বলেন, ‘গত রাতে এক ভাইয়ের অসুস্থ হলে তাকে নিয়ে ইবি মেডিকেলে গিয়েছিলাম। ডাক্তারের রুমে যেয়ে দেখি দায়িত্বরত ডাক্তার হাতে সিগারেট আর কানে ইয়ারফোন দিয়ে আছেন। আমি ডাক্তারকে আমাদের অসুস্থতার কথা বলি। তিনি সমস্যার কথা শুনতে পেল কি পেল না তিনিই জানেন। ডাক্তার জ্বর আছে কিনা তার এক স্টাফকে দেখতে বললেন। স্টাফ রোগীর হাত ধরে জ্বর আছে কিনা চেক করল। পরে স্টাফকে এক পিস নাপা দিতে বলেন তিনি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমি কিছুদিন আগে দাতের সমস্যার জন্য মেডিকেলে যাই। সেখানে ডাক্তার আমাকে বসিয়ে রেখে ফোনে একের পর এক ভিডিও দেখতে থাকে। আমার দিকে কোনো নজর নাই তার, তারপর প্রায় ১০/১২ মিনিট পর আমাকে জিজ্ঞেস করে কি সমস্যা।  আমি সমস্যার কথা বললে তিনি বললেন দাতের এক্স-রে করাতে হবে। তারপর আর কিছু না বলে আবার ভিডিও দেখা শুরু করেন। আমি কিছুক্ষণ বসে থাকার পর নিজে থেকেই জিজ্ঞেস করলাম আমি কি চলে যাবো? তখন তিনি প্রেস্ক্রিপশনে ওষুধ লিখে দিলেন। তারপর আমি চলে আসি। তার কিছুদিন পর এক্স-রে রিপোর্ট নিয়ে আবার গেলে সেই একই কাজ করেন তিনি। আমার রিপোর্ট না দেখে ভিডিও দেখছিলেন, এমন করে ১০/১২ মিনিট পর রিপোর্ট দেখে বললো বাইরে থেকে ট্রিটমেন্ট নিতে হবে এখানে এই ট্রিটমেন্ট নেই।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মেডিকেল সেন্টারের প্রধান মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীরা যখন অসুস্থতা নিয়ে আসবে তখন অবশ্যই তাদের কথা শুনতে হবে। তাদের সমস্যা অনুযায়ী সার্ভিস দিতে হবে, এটা দায়িত্ব। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে এমন অভিযোগ আসছে। আমি ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলেছি যাতে এগুলো সমাধান করা যায়। এগুলো নিয়ে কাজ করছি। ইতোমধ্যে উপাচার্য কে জানিয়েছি যন্ত্রাংশ পরিচালনার জন্য লোক দরকার। আশা করি দ্রুত সমাধান হবে।