১০ বাংলাদেশিসহ অভিবাসী নিয়ে আলবেনিয়ায় প্রথম ইতালীয় জাহাজ

ইতালি-আলবেনিয়া চুক্তির অধীনে ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার হওয়া ১৬ জনের প্রথম দলটি বুধবার আলবেনিয়ার শেনজিন বন্দরে এসে পৌঁছায়। এদের মধ্যে ১০ জন বাংলাদেশি এবং ছয়জন মিশরীয় রয়েছেন। বুধবার (১৬ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ফুটেজে দেখা গেছে, ইতালি নৌবাহিনীর জাহাজ লিব্রা শেনজিন বন্দরে নোঙর করেছে। 

এর আগে রোববার (১৩ অক্টোবর) ভূমধ্যসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে এই ১০ বাংলাদেশি এবং ছয় মিশরীয় উদ্ধার করেছিল রোম। ইতালির লাম্পেদুসা থেকে সোমবার যাত্রার পর অবশেষে বুধবার আলবেনিয়ায় এসে পৌঁছায় অভিবাসীদের প্রথম দলটি। 

২০২৩ সালের সালের শেষের দিকে ইতালির ডানপন্থি প্রধানমন্ত্রী জর্জা মেলোনি এবং আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এডি রামার সরকারের মধ্যে সই করা একটি ‘বিতর্কিত’ চুক্তির অধীনে প্রথমবারের মতো আলবেনিয়ায় আসলেন অভিবাসীরা। এই চুক্তি আগামী পাঁচ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে বলে উল্লেখ রয়েছে।

আলবেনিয়ার আসা আশ্রয়প্রার্থীদের এখন শেনজিন বন্দরের কেন্দ্রটিতে প্রাথমিক যাচাই-বাছাই করা হবে। পরে তাদের নেয়া হবে শেনজিন থেকে ১৫ মিনিটের দূরত্বে আলবেনিয়ার ছোট্ট গ্রাম গজদারে স্থাপিত ভিন্ন অবকাঠামোতে। চুক্তির অধীনে সর্বোচ্চ তিন হাজার আশ্রয়প্রার্থীকে আলবেনিয়ার কেন্দ্রগুলোতে রাখা যাবে। প্রতি বছর ৩৬ হাজার অভিবাসীর আশ্রয় আবেদন যাচাই-বাছাই করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আলবেনিয়ার কেন্দ্রগুলো উঁচু প্রাচীরে ঘেরা এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি ক্যামেরার আওতায় রয়েছে। যেসব কক্ষে আশ্রয়প্রার্থীদের রাখা হবে সেগুলো একেকটি ১২ বর্গ মিটার আয়তনের বলে জানিয়েছে রোম এবং তিরানা।  এই চুক্তির পর অভিবাসীদের অনেকের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে যে সম্ভবত ভূমধ্যসাগর হয়ে আসা সবাইকে আলবেনিয়ায় পাঠানো হবে।

প্রকৃতপক্ষে যেসব দেশকে ইতালি ‘নিরাপদ’ বলে মনে করে সেসব দেশ থেকে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে একক বা সিঙ্গেল পুরুষদের আলবেনিয়ায় পাঠাতে পারবে রোম। বর্তমানে বাংলাদেশ, মিশর, আইভরি কোস্ট এবং তিউনিশিয়াসহ মোট ২১টি দেশ নিরাপদ তালিকায় আছে। ২০২৩ সালে এই চারটি দেশ থেকে মোট ৫৬ হাজার ৫৮৮ জন অভিবাসী ইতালিতে এসেছেন।

প্রতি মাসে হাজার হাজার অভিবাসীকে ভূমধ্যসাগর থেকে আলবেনিয়ায় পাঠানোর এই প্রকল্পটি সত্যিকার অর্থে বাস্তবায়িত হবে কিনা সেটি এখন দেখার বিষয়।

সূত্র: ইনফোমাইগ্রেন্টস