‘ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর’ ‘দলবাজ’ ‘আওয়ামী মদদপুষ্ট’ বিচারপতিদের অপসারণে কিছুদিন ধরে আন্দোলন, সমাবেশ, বিবৃতি ও বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থী ও আইনজীবীরা। এমন পরিস্থিতির মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ১২ বিচারপতিকে প্রাথমিকভাবে কোনো বেঞ্চ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। তাদের মধ্যে ছয়জন এর আগে চায়ের আমন্ত্রণ পেয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাদের কাউকে কাউকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের সঙ্গে আলোচনা শেষে গতকাল বুধবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ১২ বিচারপতিকে বেঞ্চ না দেওয়া বা বিচারকাজ থেকে বিরত রাখার বিষয়টি জানান। বেঞ্চ না দেওয়া বিচারপতিদের মধ্যে আছেন বিচারপতি নাইমা হায়দার, বিচারপতি খুরশীদ আলম সরকার, বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খান, বিচারপতি খিজির হায়াত, বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাস ও বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ।
অন্যরা হলেন বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলাম, বিচারপতি এসএম মাসুদ হোসাইন দোলন, বিচারপতি মো. আখতারুজ্জামান, বিচারপতি শাহেদ নূর উদ্দিন, বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামান ও বিচারপতি এসএম মনিরুজ্জামান। তারা চায়ের আমন্ত্রণে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন এই ১২ বিচারপতির নাম না জানালেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে।
‘দলবাজ’ বিচারপতিদের অপসারণের দাবিতে গত মঙ্গলবার হাইকোর্ট ঘেরাও কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টা থেকে শিক্ষার্থীরা হাইকোর্টে তাদের কর্মসূচি পালন করেন। সুপ্রিম কোর্টের এমন সিদ্ধান্তের পর তারা বিকেল ৪টার পর সুপ্রিম কোর্ট এলাকা ত্যাগ করেন।
শিক্ষার্থীদের হাইকোর্ট ঘেরাও কর্মসূচি : বেলা ১১টা বাজার পর থেকে মিছিল ও স্লোগানসহকারে কয়েকশ শিক্ষার্থী সুপ্রিম কোর্টে আসতে শুরু করেন। তারা হাইকোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে জড়ো হয়ে সমাবেশ ও স্লোগান দিতে থাকেন। একই সময় একই দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে এসে জড়ো হতে থাকেন জাতীয় নাগরিক কমিটির লিগ্যাল উইংয়ের সদস্যরা। এর আগেই ‘বৈষম্যবিরোধী আইনজীবী সমাজে’র ব্যানারে একদল আইনজীবীও অ্যানেক্স ভবনের পাশে জড়ো হয়ে সমাবেশ করেন। এর আগেই খবর ছড়িয়ে পড়ে হাইকোর্টের ১২ বিচারপতিকে চায়ের দাওয়াত দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।
দুপুর ১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ শিক্ষার্থীদের সমাবেশে বিচারপতিদের অপসারণ নিয়ে আলটিমেটাম ও কর্মসূচি দেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের আট দফায় কিন্তু স্পষ্টভাবে ছিল আমরা ফ্যাসিবাদ ব্যবস্থার বিলোপ চাই। খুনি শেখ হাসিনা যাদের দিয়ে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিলেন, তাদের মধ্যে এ বিচারকরা অন্যতম।’ তিনি কর্মসূচি ঘোষণা করে বলেন, ‘আজ (গতকাল) দুপুর ২টার মধ্যে যেসব ফ্যাসিস্ট বিচারক এ বিচারালয়ে আছেন, তাদের অপসারণ করতে হবে। বাংলাদেশে সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রত্যেকটা বিচারালয়ের আওয়ামী লীগের দোসর, আওয়ামী লীগের যত আইনজীবী আছেন, তাদের অপসারণ করতে হবে। অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করতে হবে। আমাদের এ দাবিগুলো যদি না মানা হয়, বিশেষ করে আওয়ামী বিচারকদের যদি অপসারণ না করা হয়, তাহলে আমরা এ বিচার প্রাঙ্গণ থেকে উঠব না।’
প্রধান বিচারপতির সঙ্গে ৬ বিচারকের সাক্ষাৎ : হাসনাত আব্দুল্লাহ যখন এ কর্মসূচি ও আলটিমেটাম ঘোষণা করছিলেন, তখন আপিল বিভাগের মূল ভবনের দোতলায় প্রধান বিচারপতির কার্যালয়ের সামনে পর্যায়ক্রমে আসছিলেন হাইকোর্টের ছয় বিচারপতি। তারা প্রথমে সেখানে ওয়েটিং রুমে প্রবেশ করে কিছু সময় অবস্থান করেন। তবে গণমাধ্যমকর্মীদের কোনো প্রশ্নের জবাব তারা দেননি। এরপর একে একে তারা প্রধান বিচারপতির সাক্ষাৎ পেতে যান। সাক্ষাৎ শেষে তারা পর্যায়ক্রমে বেরিয়ে আসেন। দুপুর ২টার মধ্যে ছয় বিচারপতির সাক্ষাৎ শেষ হয়। তখনো অ্যানেক্স ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি চলছিল। প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ছয় বিচারপতির অন্তত চারজন বিচারপতি আকারে ইঙ্গিতে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, তারা ছুটিতে যাচ্ছেন। তবে তাদের ছুটির বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করেননি।
৫ মিনিটের আলটিমেটাম ও ঘোষণা : সমাবেশ ও স্লোগানের মধ্যে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম অ্যানেক্স ভবনের সামনে সমাবেশে ‘দলবাজ’ ও ‘আওয়ামী মদদপুষ্ট’ বিচারপতিদের অপসারণে ৫ মিনিটের আলটিমেটাম দেন। তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ না অফিশিয়ালি বিচারকদের অপসারণের ঘোষণা না আসছে, আমরা এখানে থাকব। এরপর এ বিচার প্রাঙ্গণে যদি কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটে, এর দায় তাদের নিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের জায়গা থেকে স্পষ্ট একটা কথা বলি, এত সুশীলতা করার জন্য এ অভ্যুত্থান হয়নি। কত মানুষ রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে ওই ফ্যাসিস্টদের সংবিধানকে দেখানোর জন্য নয়। এসব সংবিধান আর হাইকোর্ট আমাদের দেখানো লাগবে না। ফ্যাসিবাদের দোসররা কোনো প্রক্রিয়ায় এ হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টে ঢুকতে পারবে না।’
এর কিছুক্ষণ পর আরেক সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী বিচারপতিদের বিষয়ে সর্বশেষ কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা জানতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয়ে যান। রেজিস্ট্রার জেনারেল আজিজ আহমেদ ভূঞা, হাইকোর্ট বিভাগের স্পেশাল অফিসার মোয়াজ্জেম হোছাইনসহ কয়েকজন প্রধান বিচারপতির খাস কামরায় যান। কিছুক্ষণ পর তারা বেরিয়ে আসেন। এ সময় রেজিস্ট্রার জেনারেল সমন্বয়ক ও সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের কর্মকর্তা ছাড়া অন্যদের কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যেতে অনুরোধ করেন।
বিকেল ৪টার দিকে হাসনাত আব্দুল্লাহ, আজিজ আহমেদ ভূঞা ও সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কার্যালয় থেকে বেরিয়ে অ্যানেক্স ভবনের সামনে যান। সেখানে আজিজ আহমেদ ভূঞা বলেন, ‘আপনাদের (শিক্ষার্থী) যে দাবি, আপনাদের যে লিডার, তারা আমার চেম্বারে বসেছিলেন। আমরা দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেছি। পরবর্তীকালে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলেছি। আপনারা জানেন, বিচারপতির পদত্যাগ বা অপসারণ এটার একটা প্রক্রিয়া আছে। বর্তমানে দেশে এ-সংক্রান্ত কোনো আইন বিদ্যমান নেই। বিগত সরকার সংসদের মাধ্যমে বিচারপতিদের অপসারণের, ইম্পিচমেন্টের একটা উদ্যোগ নিয়েছিল। একটা সংশোধনী হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট সেটা বাতিল করে দিয়েছেন। সেটা আবার সরকার রিভিউ আকারে পেশ করেছে। আগামী রবিবার (২০ অক্টোবর) সেটি প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগে শুনানি হবে। ওইদিন মামলাটি কার্যতালিকায় ১ নম্বর আইটেমে রাখা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বিচারপতিদের পদত্যাগে আপনাদের যে দাবি, আসলে বিচারপতিদের নিয়োগকর্তা হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি। পদত্যাগ বা অপসারণের সেই উদ্যোগও রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে হয়ে থাকে। এখানে সুপ্রিম কোর্টের, প্রধান বিচারপতির যেটা করণীয়, উনি সেটা করেছেন। আপনাদের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি, আপাতত ১২ জন বিচারপতিকে প্রাথমিকভাবে কোনো বেঞ্চ দেওয়া হচ্ছে না। বেঞ্চ না দেওয়ার অর্থ হলো, এই যে আগামী ২০ অক্টোবর আদালত খুলবে (অবকাশ শেষে), তারা আর বিচারকাজে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।’ রেজিস্ট্রার জেনারেলের এমন বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের উল্লাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।
আজিজ আহমেদ ভূঞা আরও বলেন, ‘ওই মামলাটির (ষোড়শ সংশোধনী রিভিউ মামলা) শুনানি আছে ২০ তারিখে (২০ অক্টোবর)। অ্যাটর্নি জেনারেল সেটি প্লেস (উপস্থাপন) করবেন। আশা করছি, এর মাধ্যমে পরবর্তী প্রক্রিয়াগুলো শুরু হবে।’ তিনি বলেন, ‘বিচারপতি অপসারণের সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট এককভাবে জড়িত নয়। রাষ্ট্রপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় এবং আইন উপদেষ্টা জড়িত আছে। আপাতত ১২ জনকে বেঞ্চ দেওয়া হচ্ছে না। পর্যায়ক্রমে শুনানির মাধ্যমে বাকিগুলো আপনাদের সামনে আসবে।’
তবে রেজিস্ট্রার জেনারেলের এ বক্তব্যের একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা ‘অপসারণ চাই’ ‘অপসারণ চাই’ স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় তিনি বলতে থাকেন, ‘২০ তারিখে (২০ অক্টোবর) সেটা নির্ধারিত হবে।’
তখন সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘এখন রবিবার বিকেল পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করব। আমরা অপেক্ষা করব যে আদালতের কী রায় আসে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যেসব আইনজীবী খুনি হাসিনার পুনর্বাসনে মিছিল করেছেন, তাদের অপসারণের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট বা হাইকোর্টের কোনো এখতিয়ার নেই। আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পুলিশের প্রতি দাবি জানাচ্ছি, এসব আইনজীবীর ভিডিও ফুটেজ রয়েছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করুন।’
বিচারপতিদের কে কবে নিয়োগ পেয়েছিলেন : সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা প্রাথমিকভাবে দুই বছরের জন্য অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। ব্যতিক্রম বাদে এ নিয়োগের দুই বছর পর তারা স্থায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের বয়স ৬৭ বছর পূর্ণ হলে সংবিধানের বিধান অনুযায়ী তারা অবসরে যান। যাদের বিচারকাজ থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে তাদের মধ্যে মো. আতাউর রহমান খান ২০০৪ সালের ২৩ আগস্ট হাইকোর্টে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। বিচারপতি হন ২০০৬ সালের ২৩ আগস্ট। নাইমা হায়দার ২০০৯ সালের ৩০ জুন অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়ে দুই বছর পর স্থায়ী হন। শেখ হাসান আরিফ ২০১০ সালে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। আশীষ রঞ্জন দাস অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান ২০১২ সালের ১৪ জুন। এর দুই বছর পর তিনি বিচারপতি হন। খিজির হায়াত ২০১৮ সালের ৩১ মে অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে দুই বছর পর স্থায়ী হন। মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ২০১১ সালের ২০ অক্টোবর অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১৩ সালের ৭ অক্টোবর তিনি বিচারপতি হন। এসএম মনিরুজ্জামান ২০১৮ সালের ৩১ মে হাইকোর্টে অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২০ সালের ২৯ মে একই বিভাগে স্থায়ী হন। খোন্দকার দিলীরুজ্জামান ২০১৮ সালের ৩১ মে অতিরিক্ত বিচারক হন। দুই বছর পর তিনি স্থায়ীভাবে নিয়োগ পান। শাহেদ নূর উদ্দিন অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান ২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর। ২০২১ সালের ১৮ অক্টোবর তিনি স্থায়ী হন। মো. আখতারুজ্জামান ২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর হাইকোর্টে অস্থায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। দুই বছর পর তিনি স্থায়ী হন। মো. আমিনুল ইসলাম ২০২২ সালের ৩১ জুলাই হাইকোর্টে অস্থায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। দুই বছর পর গত ৩০ জুলাই স্থায়ী হওয়ার কথা থাকলেও তাকে আরও ছয় মাসের জন্য অস্থায়ী রাখা হয়। একইভাবে এসএম মাসুদ হোসাইন দোলন নিয়োগ পান ২০২২ সালের ৩১ জুলাই। দুই বছর পর তাকেও স্থায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ না দিয়ে আরও ছয় মাসের জন্য অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
আলোচনায় ষোড়শ সংশোধনীর মামলা : অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আনে তখনকার আওয়ামী লীগ সরকার। এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে কয়েকজন আইনজীবীর রিট আবেদনের পর একই বছরের ৯ নভেম্বর বৈধতা প্রশ্নে রুল দেয় হাইকোর্ট। ২০১৬ সালের ৫ মে তিন বিচারকের হাইকোর্টের বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে রুল যথাযথ ঘোষণা করে ষোড়শ সংশোধনী বাতিল ও অবৈধ বলে রায় দেয়। হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ৪ জানুয়ারি আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। একই বছর ৩ জুলাই হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে রায় দেয় আপিল বিভাগ। ওই বছরের ডিসেম্বরে আপিল বিভাগে রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। তবে রিভিউ আবেদনটি সাত বছরেও অনিষ্পন্ন অবস্থায় রয়েছে।
গতকাল প্রধান বিচারপতির বরাত দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল জানিয়েছেন, আলোচিত এ মামলাটির রিভিউ আবেদনের ওপর রবিবার শুনানি হবে।