জুলাই বিপ্লবের গ্রাফিতি দেখলেন প্রধান উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে ছাত্র আন্দোলন ঘিরে আঁকা দেয়াল লিখন ও গ্রাফিতি ঘুরে দেখেছেন। গতকাল বুধবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পয়েন্টে ঘুরে ঘুরে তিনি এসব গ্রাফিতি আগ্রহের সঙ্গে দেখেন।

এ-সংক্রান্ত কিছু ছবি পোস্ট করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফেসবুকে লেখেন, ‘জুলাই-আগস্টের ছাত্র-অভ্যুত্থানের সময় তরুণ বিপ্লবীদের আঁকা গ্রাফিতি দেখতে বুধবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা পরিদর্শন করেন।’

এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ, অন্তর্বর্তী সরকারের তিন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলমসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

জুলাই বিপ্লবে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের দেয়ালে আন্দোলনের গ্রাফিতি আঁকেন শিক্ষার্থীরা। তেমনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের প্রতিটি দেয়ালেই আন্দোলনের স্মৃতি ধরে রাখতে আঁকা হয় বিভিন্ন গ্রাফিতি ও দেয়াল লিখন। তা দেখতেই সরেজমিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উপস্থিত হন প্রধান উপদেষ্টা।

ড. ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্রদের নেতৃত্বে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য শহর ও নগরের দেয়ালে তরুণ শিক্ষার্থীদের আঁকা সেরা গ্রাফিতি নিয়ে একটি আর্টবুক প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। সেই অনুযায়ী ‘দি আর্ট অব ট্রায়াম্ফ’ নামে একটি আর্টবুক প্রকাশ করা হয়।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে তরুণ চিত্রশিল্পীদের আঁকা-লেখায় ঢাকা সারা দুনিয়ার গ্রাফিতি রাজধানী হিসেবে পরিচিতি পায়। দেয়ালগুলো পরিণত হয় প্রতিবাদ-বিক্ষোভের বিশাল ক্যানভাসে। এর মধ্যে অনেক গ্রাফিতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। প্রশংসা কুড়ায় সর্বস্তরের মানুষের।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশে আসা বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলকে এই আর্টবুক উপহার দিয়েছেন। ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তাদের হাতে এ উপহার তুলে দেন তিনি। এ ছাড়া সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে জাতিসংঘের ৭৯তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়ক সফরের সময়ও ড. মুহাম্মদ ইউনূস কানাডার প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের হাতে ‘দি আর্ট অব ট্রায়াম্ফ’ নামে আর্টবুকটির কপি তুলে দেন।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর প্রধান উপদেষ্টা মার্কিন প্রতিনিধিদলের কাছে গ্রাফিতির ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে বলেছিলেন, ‘এসব গ্রাফিতিতে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পাশবিক শক্তিকে প্রতিহত করতে নৃশংস এক বাহিনীর মুখোমুখি আন্দোলন-বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও যুবকদের দাবি-দাওয়া, আবেগ-অনুভূতি, আশা-আকাক্সক্ষা চিত্রিত হয়েছে। এসব গ্রাফিতি এখনো রাজধানীর দেয়ালে-দেয়ালে শোভা পাচ্ছে। এগুলো শুধু বিপ্লবের পরই নয়, আন্দোলন চলাকালেও শিক্ষার্থীরা সরকারি বাহিনীকে অমান্য করে এসব গ্রাফিতি আঁকেন।’