মঠবাড়িয়া

দলীয় অন্তঃকোন্দলের শিকার রুহুল আমিন দুলাল

মঠবাড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. রুহুল আমিন দুলাল দলীয় অন্তঃকোন্দলের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন। তার দাবি, বিএনপির অন্য একটি গ্রুপের নানা ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছেন তিনি। গত উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির কমিটি গঠন নিয়েই ঢাকায় বসবাসকারী দলের একটি ক্ষুদ্র অংশ তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে। এর বহিঃপ্রকাশে গত ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের সাথে সাথে দলের ওই অংশটি সক্রিয় হয়ে ওঠে রুহুল আমিন দুলালের বিরুদ্ধে। 

তৃণমূল থেকে ওঠে আসা রুহুল আমিন দুলাল ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। ছিলেন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক, বিএনপির দীর্ঘদিনের সাধারণ সম্পাদক ও আহ্বায়ক। তিনি বলেন, দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার পাশাপাশি গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করায় তৃণমূলের নেতাকর্মীসহ সকল শ্রেণির মানুষের সাথে তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে দলের একটি অংশ আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত করে একটি ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালের ২০ মার্চ দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ উপেক্ষা করে মঠবাড়িয়া উপজেলা বিএনপির আংশিক (৯ সদস্য ) ও মঠবাড়িয়া পৌরসভার আংশিক (৪ সদস্য) বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি গঠনে রাজাকার ও আওয়ামী পরিবারের সদস্য, তৎকালীন সরকারি দল থেকে নিয়মিত মাসিক মাসোয়ারা নেয়া লোক ও মঠবাড়িয়ার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও শীর্ষ সন্ত্রাসী আশরাফুর রহমানের নিকটাত্মীয়রা কমিটিতে স্থান করে নেয়। তৃণমূল-বিএনপি থেকে বিচ্ছিন্ন মানুষ দিয়ে কমিটি গঠনের পরপরই বিএনপির মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ, ক্ষোভ ও বিভাজনের সৃষ্টি হয়। 

মঠবাড়িয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত পিরোজপুর-৩ সংসদীয় আসন। ওই আসন থেকেই নির্বাচন করেন রুহুল আমিন দুলাল। তিনি বলেন, জনগণের প্রতি তার ভালোবাসায় ঈর্ষান্বিত হয়ে ২০২০ সালে আওয়ামী সন্ত্রাসী, মাদক সম্রাট নামে পরিচিত আশরাফুর রহমান ও বিএনপির মধ্যে থাকা আওয়ামী দালালদের একটি অংশ তাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে যুবদলের অনুষ্ঠানে হামলা করে ব্যাপক ভাংচুর করে। ওই হামলায় রুহুল আমিন দুলাল, তার ছেলে ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কে এম  হুমায়ুন কবীর, জসিম উদ্দিন ফরাজীসহ বিএনপির যুবদল ও ছাত্রদলের ৫০ জন নেতাকর্মী মারাত্মক আহত হয়।

তিনি বলেন, ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর আওয়ামী সন্ত্রাসীরা মঠবাড়িয়া ছেড়ে পালালেও বিএনপির মধ্যে থাকা আওয়ামী দালালরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা আওয়ামী এজেন্ডা বাস্তবায়নে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ,বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু পত্রিকায় সংবাদ ছাপায় এবং দলীয় হাইকমান্ডকে ভুল বুঝিয়ে দুলালকে বহিষ্কার করে। প্রকৃতপক্ষে আত্মগোপনে থাকা ঐ কুচক্রীমহল বিভিন্ন অপকর্ম করে তার ওপর দোষ চাপিয়ে যাচ্ছে। 

মঠবাড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, রুহুল আমিন দুলালের বহিষ্কারের পর থেকে তার অনুসারীরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেবার জন্য ব্যাপক সভা সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছে। সাথে সাথে সঠিক তদন্ত করে রুহুল আমিন দুলালের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে তারেক রহমানের কাছে আবেদন জানিয়েছে।