দীর্ঘ দুই বছরের সেঞ্চুরিখরা কাটিয়ে বছর দুই আগে রানে ফিরেছিলেন বিরাট কোহলি। এরপর বেশ কয়েকটি সেঞ্চুরি করেছেন, কিন্তু ধারাবাহিক হতে পারেননি। কোহলি গত ৪ বছরে টেস্টে মাত্র দুটি সেঞ্চুরি করেছেন। সেখানে রুট করেছেন ১৮টি সেঞ্চুরি। উইলিয়ামসন করেছেন ১১টি সেঞ্চুরি। স্মিথ করেছেন ৬টি সেঞ্চুরি। পরিসংখ্যান কোহলির পতনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গতকাল ‘ডাক’ মারার পর ভারতীয় ক্রিকেটে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে যে, কোহলির কি এবার জাতীয় দলের জায়গা অন্য কারও জন্য ছেড়ে দেওয়া উচিত? গত চার বছরে কোহলির গড় ৩২.৯২। এই সময়ে ৩১টি টেস্ট খেলে করেছেন ১৭৪৫ রান। পরিসংখ্যান খুব বাজে না হলেও কোহলির সঙ্গে মানানসই নয়।
তাহলে কি কোহলির সরে দাড়ানো উচিত? এ বিষয়ে ভারতের সাবেক ক্রিকেটার সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায় স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘যেকোনো সেরা ব্যাটারের ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রথম ১০-১২টি সেঞ্চুরি খুব তাড়াতাড়ি করছে। পরেরগুলি করতে সময় লাগে। কারণ তখন তার দুর্বলতাগুলো বোলারেরা বুঝতে শুরু করেছে। কোহলির ক্ষেত্রে এখন সেঞ্চুরি পেতে খুব বেশি সময় লাগছে। এতটা সময় লাগাও উচিত নয়।’
অবশ্য ভারতের আরেক সাবেক ক্রিকেটার সাবা করিম এখনই কোহলিকে নিয়ে আশা ছাড়তে রাজি নন, ‘কোহলি খুবই পরিশ্রমী। সে অনুশীলনে নিজেকে উজাড় করে দেয়। অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড সফরে রান করেছে। তার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না। কিন্তু ধারাবাহিকতার অভাব আছে। এখন কোহলি টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিয়েছে। টেস্টে বেশি সময় দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। আশা করি দ্রুতই সে টেস্টে সেঞ্চুরি পেয়ে যাবে।’
গত ১৬ বছরে কোহলি যেভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করেছেন, ভারতকে যত ম্যাচ জিতিয়েছেন, তাতে কোহলির যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা কঠিন। ভারতের গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়েরও অন্যতম নায়ক তিনি। কিন্তু রান না পেলে তো যে কোনো ব্যাটারকেই সরে যেতে হয়। ধারাবাহিকভাবে রান না পেলে কখনো বড় ক্রিকেটারও দলের বোঝা হয়ে ওঠেন। সমর্থকেরা নিশ্চয়ই চাইবেন না কোহলিকে সেই সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে দেখতে।