সন্তান জন্ম হওয়ার পর মা-বাবা ও আত্মীয়স্বজনের ওপর গুরুত্বপূর্ণ একটা দায়িত্ব হলো সন্তানের ভালো নাম রাখা। হজরত সামুরাহ ইবনে জুনদুব (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুল (সা.) বলেন, ‘প্রত্যেক শিশু তার আকিকার বিনিময়ে বন্ধক থাকে। তার জন্মের সপ্তম দিনে আকিকা করতে হয়, মাথার চুল ফেলতে হয় এবং নাম রাখতে হয়।’ (আবু দাউদ ২৮৩৮)
নাম রাখার ক্ষেত্রে চিন্তা-ভাবনা করা এবং খুব সতর্কতা অবলম্বন জরুরি। যাতে নাম হয় শ্রুতিমধুর ও অর্থবহ। কারণ নামের প্রভাব বাস্তব জীবনে পড়ে, সেটার প্রমাণ হাদিসে বিদ্যমান। সন্তান ছেলে হোক বা মেয়ে, কী ধরনের নাম চয়ন করবে সে সম্পর্কে হাদিসে সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে।
হজরত আবু ওয়াহব আল জুশামি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা নবীদের নামানুসারে নাম রাখো। নামসমূহের মধ্যে আল্লাহর কাছে প্রিয়তর হচ্ছে আবদুল্লাহ ও আবদুর রহমান। যথার্থ নাম হচ্ছে হারিস (চাষি) ও হাম্মাম (উদ্যমশীল) এবং সবচেয়ে নিকৃষ্ট নাম হচ্ছে হারব ও মুররা।’ (আদাবুল মুফরাদ ৮২১)
যদি কেউ অর্থহীন ও অসুন্দর নাম রাখে পরবর্তী সময়ে তা পরিবর্তন করার সুযোগে রয়েছে। হাদিস থেকে এর প্রমাণও পাওয়া যায়। কোনো সাহাবির নাম অর্থবহ ও সুন্দর না হলে রাসুল (সা.) তার নাম পরিবর্তন করে সুন্দর ও অর্থবহ নাম রাখতে বলতেন। রাসুল (সা.) তার স্ত্রীর নামও পরিবর্তন করে সুন্দর ও অর্থবহ নাম রেখেছেন। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘উম্মুল মুমিমিন জুয়াইরিয়া (রা.)-এর নাম ছিল বাররা। রাসুল (সা.) তার নাম রাখেন জুয়াইরিয়া।’ (আদাবুল মুফরাদ ৮৩৮)
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে লোকের নাম মালিকুল আমলাক (রাজাধিরাজ) রাখা হয়েছে, আল্লাহর কাছে সেটি সর্বনিকৃষ্ট নাম।’ (আদাবুল মুফরাদ ৮২৪)