রাত হলেই বাড়ে যন্ত্রণা, টাকার অভাবে বন্ধ চিকিৎসা 

সারা দেশের শিক্ষার্থীদের মতো বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিল সাইফুল ইসলাম (১৩)। গত ১৯ জুলাই রাজধানীতে ছাত্র-জনতার সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে পুলিশের ছোড়া গুলিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সাইফুল। গুলি লাগে তার বাঁ পায়ে। পরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিলেও এখনো পুরোপুরি সেরে ওঠেনি সে। এদিকে ধারদেনায় চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে তার পরিবার। তাই চিকিৎসা অনেকটাই বন্ধ রয়েছে সাইফুলের। ভাঙা পায়ের যন্ত্রণা নিয়ে বিছানায় দিন কাটছে তারা। 

আহত সাইফুল ইসলাম কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার জোড্ডা পশ্চিম ইউনিয়নের দামুরপাড় গ্রামের মুন্সী বাড়ির দিনমজুর জসীম উদ্দিন ও আয়েশা বেগম দম্পতির ছেলে। নিশ্চিন্তপুর আব্দুল গফুর ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র সে।

আহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুলাই ঢাকায় গুলশানে বোনের বাসায় বেড়াতে যায় সাইফুল। ১৯ জুলাই সকালে স্থানীয় ইমনসহ কয়েকজন মিলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেয়। এদিন দুপুর ১২টার দিকে ভাটারা থানার পাশে ক্যামব্রিয়ান কলেজসংলগ্ন এলাকায় ছাত্র-জনতার সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ সময় বিপরীত দিক থেকে পুলিশের ছোড়া গুলি সাইফুলের বাঁ পায়ে বিদ্ধ হয়। সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সে।

পরে ছাত্ররা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় উপশম হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা করান। পরে এ এম জেড হাসপাতালে নিয়ে যান। ২২ জুলাই বাড্ডার পপুলার হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে বনানী ক্লিনিকে অপারেশন করে গুলি বের করা হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেয় সাইফুল।

আহত সাইফুল ইসলাম বলে, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ঢাকার বড় ভাইদের সঙ্গে ছাত্র আন্দোলনে যাই। আন্দোলনে পুলিশের ছোড়া গুলিতে আহত হই। পরে ছাত্ররা আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করায়। পাশাপাশি আমার বাবাকে ফোন দেয়। বাবা তখন বাড়িতে ছিলেন। বাবা খবর পেয়ে বড় বোন জারমিন সোলতানাকে ফোন দেন। পরে বোন আর বোনের জামাই আসেন। এখন টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না। পা নিয়ে অনেক কষ্ট পাচ্ছি। রাত হলেই বাড়ে যন্ত্রণা। ডাক্তার বলছেন, এভাবে চার মাস রাখতে হবে। সরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা পাইনি। দলীয় কোনো নেতাও দেখতে আসেননি।’ 

আহত সাইফুলের বাবা জসীম উদ্দিন বলেন, ‘১৯ জুলাই সাইফুল ফোন করে জানায় সে গুলিবিদ্ধ হয়ে এ এম জেড হাসপাতালে আছে। সঙ্গে সঙ্গে আমার মেয়ে ও জামাতাকে হাসপাতালে পাঠাই। হরতাল ও কারফিউ থাকায় ঢাকা যেতে পারিনি। কী করব বুঝতে পারছিলাম না। পরে ২২ জুলাই ১০ হাজার টাকা গাড়ি ভাড়া দিয়ে ঢাকা যাই। এ এম জেড হাসপাতাল থেকে তাকে পপুলার হাসপাতালে ডাক্তার দেখাই। ডাক্তারের পরামর্শে বনানী ক্লিনিকে অপারেশন করে গুলি বের করা হয়। তার বাম পায়ের হাড় ভেঙে গেছে। দ্রæত সুস্থ হতে তার উন্নত চিকিৎসা দরকার। এদিকে সব সঞ্চয় ও ঋণ নিয়ে চিকিৎসা করাতে গিয়ে আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘বাড়ি এসে দেখি বন্যায় ডুবে ঘরের ধান-চাল সব নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা এখন কী খাব, কীভাবে ছেলের চিকিৎসা করাব, তা বুঝতে পারছি না। পরিবারে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে অনেক কষ্টে আছি। আমি অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।’ 

এ বিষেয়ে জানতে চাইলে নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া আক্তার লাকী বলেন, ‘তারা আমার কাছে আবেদন করলে সহযোগিতা করব।’