মাদককারবারিকে ধরতে গিয়ে হামলার শিকার পুলিশ, আটক ১

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে মাদককারবারিকে ধরতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ। হামলার ঘটনায় পুলিশের ৫ সদস্য আহত হয়েছেন।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- সহকারী উপ-পরিদর্শক(এএসআই) আব্দুল লতিফ, শামছুজ্জোহা, কনস্টেবল রিপন চন্দ্র সরকার, শাহিন আলম ও আমিরুল ইসলাম। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে থানায় ফিরেছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওবায়দুর রহমান।

পুলিশ জানায়, বুধবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে হামলায় নেতৃত্বদানকারী জুবায়ের আহাম্মেদ সিয়াম (২৪) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। 

এর আগে গত মঙ্গলবার রাত ৮ টার দিকে উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামে পুলিশের হামলার এ ঘটনা ঘটে। পরে মঙ্গলবার রাতেই পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ঈশ্বরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আক্তারুজ্জামান মিয়া বাদী হয়ে ৩৪ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ৮০-৯০ জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে প্রকাশ্যে মাদক বেচা-কেনার খবর পেয়ে উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের তোতার মোড় এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশের একটি টিম। এ সময় ঘটনাস্থলে জামাল হোসেন ও অজ্ঞাতনামা অপর একজন গাঁজাসহ আটক করে পুলিশ। আটককৃত দুইজনকে থানায় নিয়ে আসতে চাইলে স্থানীয় জুবায়ের আহাম্মেদ সিয়ামের নেতৃত্বে একদল লোক জড়ো হয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে।

পরে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মো. ওবায়দুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের অপর একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে উপস্থিত জনতাকে মাদকের কুফল সম্পর্কে বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পুলিশের ওপর হামলার নেতৃত্বদানকারী জুবায়ের আহাম্মেদ সিয়ামকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। সিয়াম উচাখিলা ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামের বদরুল হক বাবলুর ছেলে।

এ প্রসঙ্গে ঈশ্বরগঞ্জ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, 'মাদক ও জুয়ার বিষয়টি নিয়ে জিরো ট্রলারেন্স নীতি অনুযায়ী বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে কাজ করছে থানা পুলিশ। মাদককারবারি ধরতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলা কাম্য নয়। মাদককারবারিদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।

 

তিনি আরও জানান, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। হামলায় নেতৃত্বদানকারী একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মাদককারবারি ও হামলায় জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টায় সাড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।