অপটিক্যাল ও কোয়ান্টাম মেকানিক্যাল ম্যানিপুলেশনে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ গ্যালিলিও গ্যালিলি মেডেল গ্রহণ করেছেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) তড়িৎ ও কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহদী রহমান চৌধুরী।
আজ বৃহস্পতিবার ২৬তম ইন্টারন্যাশনাল কমিশন ফর অপটিক্স (আইসিও) সম্মেলনে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই পুরস্কার লাভ করেন তিনি। ফলে তিনি ‘আইসিও গোল্ডেন বুক’-এ স্থান অর্জন করেছেন।
সম্মেলনে আমন্ত্রিত বক্তাদের মধ্যে ড. মাহদীর সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ী দুই বিজ্ঞানী। তারা হলেন, অ্যাটোসেকেন্ড পদার্থবিজ্ঞানে অবদান রাখার ২০২৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক অ্যান ল'হুইলিয়ার ও পালসড লেজার প্রযুক্তিতে অবদানের জন্য ২০১৮ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ডোনা স্ট্রিকল্যান্ড।
অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে ড. মাহদী 'লাইট অ্যান্ড ম্যাটার ওয়েভ ইউজিং মাইক্রোস্কোপিক থেকে লার্জ স্কেলে অপটিক্যাল অ্যান্ড কোয়ান্টাম ম্যানিপুলেশন' বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। এরপর আলোকবিজ্ঞানের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানীদের উপস্থিতিতে গ্যালিলিও গ্যালিলি পদকে ভূষিত হন তিনি।
ড. মাহদী ২০১৭ সালে এনএসইউতে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। এখন পর্যন্ত শীর্ষ পর্যায়ের জার্নালে তার ৫২টিরও বেশি গবেষণা পত্র প্রকাশিত হয়েছে। তিনি ২০১৮ সালে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি এবং টিডব্লিউএএস (দ্য ওয়ার্ল্ড একাডেমি অব সায়েন্স) এর আন্তর্জাতিক অনুদানের অর্থে এনএসইউ অপটিক্স ল্যাব প্রতিষ্ঠা করেন। তার তত্ত্বাবধানে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী কর্নেল ইউনিভার্সিটি এবং জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানে পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য পূর্ণ বৃত্তি অর্জন করেছেন।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রাক্তন ছাত্র ড. মাহদী ২০১৭ সালে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর থেকে অপটিক্স ও ফটোনিক্সে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। অসামান্য গবেষণা কৃতিত্বের জন্য তিনি দুইবার এনএসইউ রিসার্চ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস (২০২১, ২০২৩) এবং ২০১৮ সালে ইউজিসি গোল্ড মেডেল অর্জন লাভ করেন।
১৯৯৪ সাল থেকে অপটিক্স এবং কোয়ান্টাম গবেষণার জন্য প্রতি বছর একজন বিজ্ঞানীকে এই পুরষ্কার দেওয়া হয়। অতীতে এই পুরস্কার অর্জনকারীদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের অধ্যাপক অজয় ঘটক, দক্ষিণ আফ্রিকার অধ্যাপক মালিক মাজা এবং রাশিয়ার অধ্যাপক ভিক্টর বালিকিন। ড. চৌধুরীর অর্জন বিশ্ব বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ে বাংলাদেশের অবস্থানকে এগিয়ে নেবে এবং বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।