মানুষ অনেক সময় নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। ফলে নানা ধরনের গুনাহের কাজে জড়িয়ে পড়তে হয়। এমন ৪টি বড় গুনাহ আছে যেগুলো মনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সেগুলো তুলে ধরা হলো।
লোভ : সর্বদা লোভ থেকে বেঁচে থাকা কাম্য। কথায় আছে, লোভে পাপ। আর পাপে মৃত্যু। হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘তোমরা লোভ-লালসা থেকে বেঁচে থাকো, কেননা এ জিনিসই তোমাদের পূর্ববর্তীদের ধ্বংস করেছে এবং পরস্পরকে রক্তপাত ঘটানোর ব্যাপারে উসেিক দিয়েছে। লোভ-লালসার কারণেই তারা হারামকে হালাল সাব্যস্ত করেছে।’ (মুসলিম)
রাগ : রাগ শয়তানের কাজ। রাগের সময় হিতাহিত জ্ঞান হরিয়ে ফেলে। ফলে যে কেউ রাগের মাথায় যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলতে পারে। তাই রাগ থেকে বেঁচে থাকা কাম্য। রাগ থেকে বেঁচে থাকতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছোট্ট একটি আমল বা বাক্য পড়ার নসিহত পেশ করেছেন। যা মুহূর্তের মধ্যে মানুষের রাগকে কমিয়ে দেয়। তা হলো ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাশ শায়তানির রাজিম।’
হিংসা : অন্যের সুখ ও শান্তি দেখে যখন কারও খারাপ লাগে এবং অন্যের ক্ষতি করার ইচ্ছা হয় তখন সেটাকে হিংসা বলে। অন্যের ক্ষতি দেখে আনন্দ পেলেও তা হিংসা বলে গণ্য করা হয়। এই হিংসা সম্পর্কে কোরআন ও হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে। হিংসা একটি ভয়াবহ আত্মিক রোগ। এই রোগ থাকলে কেউ পূর্ণাঙ্গ মানুষ হতে পারে না। উপরন্তু নিজেকেই জ¦লেপুড়ে ছাই হতে হয়। আল্লাহতায়ালা এর নেতিবাচক দিক তুলে ধরে বলেন, ‘বলে দাও, তোমাদের আক্রোশেই তোমরা মরো।’ (সুরা আলে ইমরান ১১৯)
অহংকার : অহংকারীকে আল্লাহতায়ালা কখনো পছন্দ করেন না। কবিরা গুনাহের মধ্যে অহংকার অন্যতম। আমাদের মনে রাখতে হবে আমরা বুঝে না বুঝেই অহংকার করি। যা কাম্য নয়। কারণ অহংকারই পতনের মূল। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, নিঃসন্দেহে আল্লাহ অহংকারীদের পছন্দ করেন না। (সুরা নাহল ২৩) রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যার অন্তরে বিন্দু পরিমাণ অহংকার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (সহিহ মুসলিম)