সঞ্চয়পত্রের সুদাসল ফেরত পেতে গ্রাহক ভোগান্তি

সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার দিনের মধ্যেই আসলসহ সুদ ফেরতের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতিও নেয় জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর। কিন্তু ঘোষণার এক মাস পেরিয়ে গেলেও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এখন পর্যন্ত অধরা রয়েছে। বরং মাসের পর মাস পার হলেও সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের আসল এবং সুদ কোনোটাই ফেরত পাচ্ছেন না অনেকে। এমনকি বিনিয়োগকারীদের কেউ কেউ অভিযোগ করেন, তাদের সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর সুদাসল নির্ধারিত ব্যাংকে যাওয়ার পর সেই অর্থ তুলতে পারছেন না। সঞ্চয়ের টাকা ফেরত দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং সঞ্চয়পত্র অধিদপ্তরে ছুটতে ছুটতে জুতার তলা ক্ষয় করছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সঞ্চয়পত্রের অর্থ ফেরত না পেয়ে মোশারফ হোসেন নামের একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গত সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকে যান। তিনি কার কাছে যাবেন, কীভাবে যাবেন, তা নিয়ে নানা ভোগান্তির শিকার হন। পরে এক আত্মীয়র সহায়তায় বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগাযোগ করেন। সেখানে জানানো হয়, আপনার টাকা আপনার নির্দিষ্ট হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ সময় একটি দুর্বল ব্যাংকের নাম বলা হয়। তিনি সেখানে গিয়ে যোগাযোগ করেন। তিনি তখন জানান, ‘ব্যাংক তো টাকা দিতে টালবাহানা করছে। কবে ফেরত দেবে সেটাও পরিষ্কার না। আর কত জায়গায় ছোটাছুটি করতে হবে, তার শেষটা জানা নেই।’ গত ২৪ সেপ্টেম্বর সঞ্চয়পত্রের অর্থ ফেরতের জন্য দীর্ঘদিনের ভোগান্তি বা হয়রানির অভিযোগ দূর করতে সঞ্চয়পত্রের মেয়াদপূর্তির দিনই মুনাফাসহ আসল টাকা গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবে জমা করতে নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এমনকি সঞ্চয়পত্রের মুনাফা বা সুদ সময়মতো গ্রাহকদের ইন্টিমেশন প্রদান (চেকের মাধ্যমে নিশ্চিত) নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সঞ্চয়পত্র মেয়াদপূর্তির তারিখেই মুনাফাসহ মূল অর্থ ইন্টিমেশনের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইএফটির মাধ্যমে গ্রাহকের অনুকূলে সংশ্লিষ্ট হিসাবে জমা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা জারি করা হয়।

আনসার আলী নামের আরেক গ্রাহক জানান, সঞ্চয়পত্রের টাকা যথাসময়ে ফেরত পাওয়ার জন্য গ্রাহক ভোগান্তি সম্প্রতি বেড়ে গেছে। বিশেষ করে দুর্বল ব্যাংকগুলোর হিসাবে যাদের টাকা ফেরত গেছে, তারা ব্যাংকে ধরনা দিয়ে টাকা ফেরত পাচ্ছেন না।

এদিকে ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি সঞ্চয়পত্রের হিসাব পরিবর্তনের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়। বাড়ানো হয় জনবল। কিন্তু নতুন হিসাব হালনাগাদে তেমন পরিবর্তন হচ্ছে না বলে অভিযোগ গ্রাহকদের। এমনকি দালালদের সহায়তায় হিসাব পরিবর্তনের আবেদন করলেও আগের হিসাব থাকছে বলে অভিযোগ গ্রাহকদের।

এ বিষয়ে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন ও জনসংযোগ) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, গ্রাহকের ভোগান্তি কমাতে কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। যতটা সম্ভব অর্থ ফেরত পাচ্ছেন গ্রাহকরা। তবে কারও হিসাবে অর্থ স্থানান্তরের পর যদি তোলা না যায়, তার জন্য দায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যাংক। এ ক্ষেত্রে কেউ হিসাব পরিবর্তনের আবেদন করলে আমরা তা দ্রুত করে দিচ্ছি। এখনো পরিবর্তন করা হয় না, এমন অভিযোগ থাকার কথা নয়।