ভারতের ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় দানা। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত দেড়টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে ওড়িশার ভিতরকণিকা এবং ধামারার কাছে আঘাত হানে দানা। ঝড়ের গতি বেগ ছিল ঘণ্টায় ১০০-১১০ কিমি। সর্বোচ্চ বেগ ঘণ্টায় ১২০ কিমি। এর প্রভাবে ওডিশার উপকূলীয় অঞ্চল ও পশ্চিমবঙ্গে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাস বইছে। দুই রাজ্যই সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বাংলাদেশে সরাসরি আঘাত না হানলেও উপকূল অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব রয়েছে। এটি খুলনার মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৭০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এর প্রভাবে বাংলাদেশের কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
আনন্দবাজার পত্রিকার খবর বলছে, ঘূর্ণিঝড় দানা গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে (স্থানীয় সময়) ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার বেগে ওডিশার উত্তর উপকূল অতিক্রম করেছে। ওডিশার ভিতরকণিকা থেকে ধামারার মধ্যবর্তী স্থানে স্থলভাগ অতিক্রম করছে ঘূর্ণিঝড়ের সামনের অংশ। আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত এই আছড়ে পড়ার প্রক্রিয়া চলবে বলে জানিয়েছে আলীপুর আবহাওয়া দপ্তর।
আজ শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তি নম্বর-১২ তে জানানো হয়, ঘূর্ণিঝড় দানা গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাত (২৪ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৭০ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৬৫ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৩৭০ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪১০ কি. মি. দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।
এটি আরো উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে এবং শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) সকালের মধ্যে নাগাদ পুরী ও সাগর দ্বীপের মাঝখান দিয়ে ভারতের উত্তর-ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করতে পারে।
প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কি.মি. এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কি.মি., যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ১১০ কি.মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ০৩ (তিন) নম্বর (পুনঃ) ০৩ (তিন) নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, বরগুনা, বারিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, ভোলা, লক্ষীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ২-৩ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ু তাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।