বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে সাকিব আল হাসান এক অপরিহার্য নায়ক। তার বীরত্ব আর সাফল্যের মোহময় গল্পগুলো শুধু মিরপুরের সবুজ গালিচাকেই নয়, বরং কাঁপিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের মঞ্চকেও। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুরে টেস্ট খেলে অবসর নেওয়ার ইচ্ছে ছিল। তবে নিয়তি তাকে সেই সুযোগ দেয়নি। ফলে সাবেক বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের টেস্ট ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় নিয়ে অস্পষ্টতার মেঘ জমেছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুর টেস্ট খেলে বিদায় নিতে না পারলে কানপুরের টেস্টই তার শেষ ম্যাচ হবে বলে আগেই জানিয়েছিলেন।
সাকিবের সেই ইচ্ছা অপূর্ণই থেকে গেল, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সরকারের পরামর্শে তিনি দেশের মাটিতে খেলতে আসেননি। তাই যদি তিনি আর কোনো টেস্ট না খেলেন, তবে কানপুরেই ইতি ঘটেছে তার টেস্ট যাত্রার।
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটও ত্যাগ করেছেন তিনি, আর ওয়ানডে ক্রিকেটে তার বিদায়ের ইচ্ছে জানিয়েছেন আসন্ন চ্যাম্পিয়নস ট্রফি দিয়ে। কিন্তু তাও কি সম্ভব হবে?
যদি বিসিবি তাকে আফগানিস্তান সিরিজ বা পরবর্তী ওয়ানডে সিরিজে না রাখে, তবে এটাই হতে পারে সাকিবের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিদায়।
একদিকে নিরাপত্তাজনিত কারণে তার দেশে ফিরে খেলা না পারা, আর অন্যদিকে দেশের বাইরে জাতীয় দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার ইচ্ছা—এই অবস্থানে তাকে রাখা বিসিবির জন্যও কঠিন। তার ওপর সাকিবের খেলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে বোর্ড সভাপতির সহায়তা প্রয়োজন।
বোর্ড প্রধান ফারুক আহমেদ, যিনি নিজেও একজন সাবেক ক্রিকেটার এবং জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক, এই পরিস্থিতি সমাধানের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন কি না, সেটি এখন দেখার বিষয়।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে অবসর নেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক মঞ্চের প্রথা তেমন নেই। ঘোষণা দিয়ে বিদায় নেওয়ার সংস্কৃতি কম, এমনকি কেউ বিদায় নিতে চাইলে অনেক সময় বিসিবি সেই সুযোগও রাখে না। তবে সাকিবের বিদায় নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা বিসিবির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।