জোঁকের মতো ঝুট ব্যবসা কামড়ে ধরেছিলেন সাবেক মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

আর মাত্র তিন মাস পার হলেই ৫০ বছর ক্ষমতার চেয়ারে থাকার জমকালো আয়োজনের কথা ছিল মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেলের। সে অনুযায়ী মোজাম্মেলের সমর্থকরা বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের ছকও কষছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই ‘শখ’ পূরণ করতে পারেননি তিনি।

প্রায় ৫০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে কখনোই দেখেননি কারাগারের চার দেয়াল। এখনও এড়াতে চান বন্দিজীবন। এ কারণেই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক গ্রেপ্তারের ভয়ে আছেন লুকিয়ে। স্থানীয় নেতাকর্মীর মধ্যে চাউর আছে, তিনি এখনও গাজীপুরেই।

কালিয়াকৈর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর সূত্রে জানা যায়, জোঁকের মতো ঝুট ব্যবসা কামড়ে ধরেছিলেন আ ক ম মোজাম্মেল। এলাকার কোনো কারখানা থেকে কত টাকা আসবে, সেটি নিজেই নির্ধারণ করে দিতেন। মন্ত্রীর নির্দেশে প্রতি মাসে একটি কারখানা থেকে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত উঠত। এই টাকার কিছু অংশ দলের তৃণমূল পর্যায়, অর্থাৎ ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানা ও পৌর শাখার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে দেওয়া হতো। এই টাকা পাঁচ হাজার থেকে শুরু করে বিভিন্ন অঙ্কের ছিল। টাকার অঙ্ক নির্ধারণ করে দিতের মন্ত্রী নিজেই।

জানা যায়, ১৯৭৩ সাল থেকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে ১৫ বছর ক্ষমতায় ছিলেন মোজাম্মেল। এরপর পৌরসভা ও এমপি পদে ধারাবাহিকভাবে গত ৫ আগস্ট পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন। তবে মন্ত্রীর বাল্যবন্ধু কাজী মোজাম্মেল হকের দাবি, স্বাধীনতার আগে থেকেই তিনি ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন। গাজীপুর সদর আসনের বাসিন্দা হলেও তিনি এমপি হয়েছিলেন কালিয়াকৈর থেকে।