পাখির স্বাধীনতা
সুজন দাশ
বনের পাখি গাইছে গলা ছেড়ে,
ঠোঁট দুটো তার অবাক নেড়ে নেড়ে!
বাতাস তারে দিচ্ছে দোলা এসে,
সুরখানা তার যাচ্ছে দূরে ভেসে।
উদাস পাখির এমন-ই মধুর গান,
শুনে আমার জুড়িয়ে গেল কান!
চেয়ে চেয়ে দেখছি পাতার ফাঁকে,
সুরের মায়ায় আটকে যেন রাখে!
মানায় তারে এমন পরিবেশে,
নির্জনতা দাঁড়ায় পাশে ঘেঁষে!
ভাবছি এমন স্বাধীন জীবন পেলে,
উড়ে যেতাম স্বপ্নে ডানা মেলে।
চাহিদা তার একটি কেবল ক্ষুধা,
মিটে গেলেই ঢালে সুরের সুধা!
ইচ্ছে হলেই আসতে পারে ঘুরে,
থাকতে পারে গোটা ভুবন জুড়ে।
পুতুলি
সজীব মালাকার
আমার মেয়ে নাম পুতুলি
মস্ত বড় আঁকিয়ে,
রেলগাড়ি সে আঁকতে পারে
একটুখানি বাঁকিয়ে।
বয়সটা তার নয়তো বেশি
মাত্র বছর চারটি,
কিন্তু এমন ভাব ধরে সে
বয়স যেন থার্টি।
সারাটা দিন কাজেই থাকে
একটুও নয় আলসে,
কাজের মাঝে পড়লে বাঁধা
ফুলিয়ে রাখে গাল সে।
ক্ষুদ্র প্রাণী
মোহাম্মদ মিজান মাঝি
হোক না অতি ক্ষুদ্র প্রাণী
পিপীলিকার ওই দল।
তাদের আছে একতা আর
সাহস, শক্তি ও বল।
শৃঙ্খলাও বজায় রাখে
হয় না লাইনচ্যুত।
আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখে,
দেয় অনেক গুরুত্ব।
খাবার নিয়ে করে না কেউ
কোনো মারামারি।
হিংসা-বিদ্বেষ, অহংকার নেই
স্বার্থের কাড়াকাড়ি।
সৃষ্টির সেরা জীব তবু
নিকৃষ্ট আজ এত।
পশুর চেয়ে অধম আমরা
মনটা বিষের মতো।
পিপীলিকার থেকে অনেক
শেখার আছে বাকি।
বিবেক বুদ্ধি সব খেয়েছি
লজ্জা কীভাবে ঢাকি।