৮ দফা দাবি আদায়ে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে শুক্রবার বিকেলে মহাসমাবেশ করেছে বিভিন্ন সনাতনী সংগঠনের ঐক্য মোর্চা ‘বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চ’। সমাবেশে বক্তারা দেশে ধর্মের নামে নির্যাতন বন্ধ না হলে প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়ে বলেন, সনাতনীদের এ দেশ থেকে উৎখাতের চেষ্টা হলে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ।
হিন্দুদের মঠ-মন্দিরে হামলা, বাড়িঘরে লুট, অগ্নিসংযোগ, হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ার অপরাধে চাকরি থেকে অব্যাহতিসহ হিন্দু নির্যাতন বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে এ মহাসমাবেশের ডাক দেওয়া হয়। দুপুরের পর থেকেই নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড এবং আশপাশের উপজেলা থেকে সনাতনী সম্প্রদায়ের মানুষ খ- খ- মিছিল নিয়ে লালদীঘি মাঠে জড়ো হতে থাকে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বিভিন্ন বয়সের লোকজনের উপস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ের আগেই লালদীঘি মাঠ ছাড়িয়ে আশপাশের এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। অনেকে বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন।
সমাবেশে বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী বলেন, যে মঞ্চ থেকে স্বাধীনতার ৬ দফা দাবি হয়েছিল সে মাঠে বাংলাদেশে সব মঠ মিশনের সাধুরা সমবেত হয়েছেন সনাতনীদের দাবি আদায়ে। সনাতনীদের ওপর যতই নিপীড়ন হবে আমরা তত বেশি ঐক্যবদ্ধ হব। আমাদের এ ঐক্যকে কোনোভাবেই বিভক্ত করতে পারবেন না। এই ঐক্য বাংলার। এটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণের ঐক্য। ৮ দফা দাবি পুরোপুরি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে প্রতিটি বিভাগে বিভাগে মহাসমাবেশ হবে। সমাবেশের পর ঢাকামুখী লংমার্চ করা হবে।
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কেউ যদি সনাতনীদের উৎখাত করে শান্তিতে থাকার চেষ্টা করেন তাহলে এ ভূমি আফগানিস্তান হবে, সিরিয়া হবে। সাম্প্রদায়িক আচরণ করে বাংলাদেশের কোনো গণতান্ত্রিক শক্তি রাজনীতি করার সুযোগ পাবে না। ক্ষমতার পটপরিবর্তন হচ্ছে বারবার, এদেশে স্থিতিশীলতা আসছে না। কারণ সহনশীলতা লুপ্ত হচ্ছে। সম্মানবোধ হারিয়ে যাচ্ছে, শিক্ষককে পদত্যাগ করানো হচ্ছে। সমাবেশে কৈবল্যধাম আশ্রমের মহারাজ কালীপদ ভট্টাচার্য, গোপীনাথ দাশ ব্রহ্মচারী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।